শফিউল বশর ছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন : সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহজাহান

0 424

।। বিশেষ প্রতিনিধি।।
সিনিয়র সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক বাংলাবার্তার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, কুমিল্লার দাউদকান্দির ভাগলপুর গ্রামের কৃতি সন্তান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ শফিউল বশর ভাণ্ডারী ছিল বাঙালির জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন। সে ছিল প্রকৃত দেশপ্রেমিক। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মাত্র ১৭/১৮ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য রক্ত দেয়। শফিউল বশর জীবনভর দেশের জন্য কাজ করেছে।

বুধবার (৩১ জুলাই ২০১৯) রাতে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক বাশার খানের সঙ্গে শোকার্ত অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মোহাম্মদ শাহজাহান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, শফিউল বশর সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিই করে গেছেন। রাজনৈতিক আদর্শ থেকে কখনোই বিচ্যুত হয়নি। আজ তাঁর গ্রামে তৃতীয় জানাজায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরও লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এর দ্বারা প্রমাণ হয় সে প্রকৃত লিডার ছিল। সে মন্ত্রী বা এমপি হতে পারলো কিনা- তা বড় কথা নয়। শফিউলকে জনগণ ভালোবাসতো। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে হাজার হাজার লোক তাঁর জানাজায় অংশ নিয়েছে একারণেই।

মোহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, শফিউল বশর খুবই স্পষ্টবাদি লোক ছিল। কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলতো না। কাউকে ভয়ও পেত না। যেখানেই অন্যায় দেখতো, গর্জন করে প্রতিবাদ করতো। যেটা সঠিক মনে করতো তাই বলতো। কবি নজরুলকে বিদ্রোহী বলা হয়। কারণ তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ও বিদ্রোহী ছিলেন। শফিউল বশরও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে গেছে। সে প্রতিবাদী ও বিদ্রোহী ছিল। আমি তাঁর জন্য দোয়া করি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন। আমিন।

উল্লেখ্য, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ডেপুটি এটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ অ্যাডভোকেট শফিউল বশর ভাণ্ডারী গত সোমবার বিকেলে ঢাকায় মারা যান। বেশ কিছুদিন যাবৎ তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। সোমবার রাতে ঢাকার কাঁটাবনে তাঁর প্রথম জানাজা, পরদিন মঙ্গলকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা এবং বুধবার বাদ আসর তাঁর গ্রামের বাড়ি দাউদকান্দির ভাগলপুরে তৃতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

১৯৭১ সালের শফিউল বশর ছিলেন বিএলএফ বা মুবিজ বাহিনীর প্রথম ব্যাচের মুক্তিযোদ্ধা। চট্টগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক অপারেশনের তিনি সক্রিয় অংশ নেন। একাত্তরের নভেম্বর মাসে একটি অপারেশনের গিয়ে আহত হন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হন। জেলে শফিউল বশরকে অমানবিক নির্যাতন করে হানাদার বাহিনী। দেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান। পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শফিউল বশরকে পোল্যান্ডে পাঠিয়ে চিকিৎসা করান।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.