।। নিজস্ব প্রতিনিধি।।
চলমান করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সেবামূলক কাজে এখন উদাহরণ কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একদল আরেক দলকে শত্রুপক্ষ ভেবে একে অপরের বদনাম করে গেলেও এবার দাউদকান্দিতে ঘটেছে ব্যতিক্রম ঘটনা। দাউদকান্দিতে করোনাকালীন সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দল-মতের উর্ধ্বে থেকে ত্রাণসহ অন্যান্য সেবা পরিচালিত হচ্ছে এখানে। এ কারণে এখানকার বিএনপির নেতাকর্মীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। প্রশংসা করেন এখানকার সেবা কার্যক্রমের মূলনায়ক দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলীর। তবে নিজ দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রশংস করায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেন; মারুফ হোসেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ল্ত্অ্ন
প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খন্দকার মারুফ হোসেন লেখেন, “কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করছি ভিন্ন দল/ব্যক্তিদের প্রতি অনেকে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে। প্রশংসা করা ভালো, তবে দলে অবস্থান করে তা করা কী শিষ্টাচার বহির্ভূত নয়!”
মারুফ হোসেনের ওই প্রতিক্রিয়াটি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শেয়ার দিয়ে- দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী লেখেন, “আমরা কে কোন রাজনৈতিক দল করি, করোনা মহামারীর সময় এটা বড় নয়। প্রথমে হচ্ছে আমরা মানুষ। আমরা আল্লাহর বান্দা। আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন, মানুষের সেবা করার জন্য। কোন নির্দিষ্ট ধর্ম /বর্ণ/গোত্র বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের অথবা সমর্থকদের সেবা করার জন্য নয়।
আমরা মানুষ হবো কবে? মহান আল্লাহ তায়ালা, আমাদেরকে মানুষ হবার তৌফিক দাও। আমিন।”
১৩ জুন ২০২৯, শনিবার দুপুরে করোনার উপসর্গ থাকায় স্থানীয় বিএনপির সমর্থক একটি পরিবারের সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টেষ্টের স্যাম্পল দিয়ে এসে একজন সাংবাদিককে ম্যাসেজ করেন যে, “ভাই, স্যাম্পল দিয়ে আসলাম। সুমন স্যারের কথা শুনে (ডাক্তাররা) ভালোই সার্ভিস দিল।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, ঢাকায় বসবাসরত স্থানীয় বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা জানান, “ঢাকায় করোনার স্যাম্পল দিতে গেলে অনেক কষ্ট। সিরিয়াল পেতে কয়েক দিন লাগে। প্রাইভেট হাসপাতালে চার হাজারেরও বেশি টাকায় টেষ্ট করতে গেলেও ২/৩ দিন লাগে স্যাম্পল সংগ্রহ টিমের সিরিয়াল পেতে। অথচ দাউদকান্দিতে কেউ ফোন করলে স্যাম্পল সংগ্রহের ব্যুথসহ হাজির হন ডাক্তাররা, আবার বিনা পয়সায়। নেই সিরিয়াল বিড়ম্বনা। সুতরাং একজন মানুষ হিসেবে ভালো কাজের প্রশংসা নিশ্চই করা উচিৎ।”
এরআগে, গত ১৬ এপ্রিল ২০২০, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “দলমত নির্বিশেষে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। যার অবস্থা খারাপ, দুস্থ, যার ঘরে খাবার নেই তার ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। আমি এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে সুনির্দিষ্ট করে বলতে চাই। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করি জনগণের জন্য। কে কোন দল করল, কে কার পক্ষে, কে আমার পক্ষে না, কে আমার ভোটার, কে আমার ভোটার না- সেটা দেখার দরকার নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বলব, “কে ভোট দিল তা নয়, সকলকেই জনগণ হিসেবে দেখে সেভাবে তালিকা করবেন।”
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী লকডাউনের সময় শ্রমিক সংকটের মুখে, সরকারি ভর্তুকি এবং দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত অর্থায়নে কেনা কম্বাইন হারবেস্টার মেশিনে দাউদকান্দির কৃষকদের ৯.৬ হেক্টর (২৩৮৭ শতক) জমির পাকা ধান নিরাপদে ঘরে তুলে দেওয়া হয়। এই কাজে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা পান উপজেলা চেয়ারম্যান। এরপর চালু করা হয় করোনা পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ স্যাম্পল সংগ্রহ ব্যুথ। দলমত নির্বিশেষে বিপাকে পড়া সবার ঘরে পৌঁছানো হয় সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ। এমনকি করোনায় আক্রান্ত বিএনপির পৌর কাউন্সিলরের বাড়িতেও খাদ্যপণ্য নিয়ে যান মোহাম্মদ আলী। তিনি দিনরাতের যে কোন সময়, এলাকার জনগণের সেবায় দৌঁড়ে বেড়ান উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।


