ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ি থানার দৈন্যদশা: উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে ব্যাপক উদ্যোগ

562

।।নিজস্ব প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার দাউদকান্দির পূর্বাঞ্চলের  সার্বিক জননিরাপত্তা রক্ষায় ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ি থানাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এর পাশ দিয়েই গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তা প্রদানেও ভূমিকা রেখে চলেছে ১৯৮৮ সালে স্থাপিত এই থানাটি।

এই পুলিশ ফাঁড়িটি বর্তমানে পড়ে আছে ব্যাপক  দৈন্যদশায়। এখানকার পুলিশ সদস্যরা থাকছেন চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

দিনরাত মহাসড়কে ডিউটি করে পুলিশ সদস্যদের  শরীর যখন ক্লান্ত তখন একটু ঘুমানোর জায়গাও নেই তাদের। ঘুমানোর জন্য প্রত্যেকের আলাদা আলাদা বিছানাও নেই। এক বিছানায় পালাক্রমে ঘুমাতে হয় কয়েকজনকে। একজন ডিউটিতে থাকলে অপরজনের সেই বিছানায় শোয়ার সুযোগ মেলে। শুধু তাই নয়, একজনের জন্য নির্ধারিত বিছানায় গাদাগাদি করে দুজনকে শুতে হয়।

রান্নাঘর, খাবার ঘর, বাথরুম ও টয়লেটের অবস্থাও চরমে। টিউবয়েলও নেই। তাই পানি কিনে খেতে হয় এখানকার পুলিশ সদস্যদের।

সম্প্রতি এই ফাঁড়ি থানা পরিদর্শনে গিয়ে অবাক হন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী [শ্রেষ্ঠ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিভাগ ও কুমিল্লার জেলা]।

ছবি : এক বিছানায় গাদাগাদি করেন ঘুমান ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা।

এরপর থানাটির দৈন্যদশা দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুনকে উদ্যোগ গ্রহণ করার তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন তিনি।পাশপাশি উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও সহায়তার ঘোষণা দেন।

ছবি : পরিদর্শনের সময়, ফাঁড়ি থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের অস্বাস্থ্যকর খাবার ঘরে খাবার খান উপজেলা চেয়ারম্যান।

 থানাটির সার্বিক দৈন্যদশা দূরীকরণে উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে গৃহীত পদক্ষেপগুলো হল :

১. স্বাস্থ্যকর থাকার জায়গা নিশ্চিতকরণ।

২. রান্নাঘর সংস্কার।

৩. খাবার ঘর সংস্কার।

৪. চারটি টয়লেট নির্মাণ।

৫. গোসলখানা নির্মাণ।

৬. আর্সেনিকমুক্ত খাবার পানির টিউবয়েল স্থাপন।

৭.  পুলিশ সদস্যদের মালামাল রাখার জন্য স্টোর রুম নির্মাণ এবং

৮. ছাদ সংস্কার করে সিলিং লাগানো ও ফ্লোর টাইলস করে সৌন্দর‌্য বৃদ্ধি।

 

ছবি :  ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ি থানার জরাজীর্ণ বাথরুম পরিদর্শন করছেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

 

এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ‘যারা রাতদিন খেটে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তারাই চরম অনিরাপদে বাস করে এখানে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।আমার নির্দেশে ৮দফা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্রুতই বদলে যাবে এই ফাঁড়ি থানার চিত্র। দূর করা হবে সকল দৈন্যদশা।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.