একাত্তরে দাউদকান্দিতে সবকটি যুদ্ধেই জয়ী হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা

476
  • ।। বিশেষ প্রতিনিধি।।
    ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ৯ মাসে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সংঘঠিত সবকটি যুদ্ধেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে  জয়ী হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।
    ২নং সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের দীর্ঘ স্মৃতিচারণ, দাউদকান্দির স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, দাউদকান্দিতে যুদ্ধে অংশ নেয়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন দলিলপত্র ঘেটে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। কারো সাক্ষাৎকার বা প্রকাশনায় এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে, দাউদকান্দিতে অন্তত একটি যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পরাজিত হন।

দাউদকান্দি এলাকায় সংঘঠিত যুদ্ধ নিয়ে নির্ভরযোগ্য অন্যতম তথ্য হচ্ছে ২নং সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশররফের স্মৃতিচারণে প্রদত্ত বক্তব্য। “খালেদ মোশাররফ- মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টর এবং কে ফোর্স” শীর্ষক প্রথমা প্রকাশন প্রকাশিত খালেদ মোশাররফের দীর্ঘ স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থে দাউদকান্দিতে বেশকটি যুদ্ধ ও অ্যাম্বুশের বর্ণনা রয়েছে। এরমধ্যে ইলিয়টগঞ্জ ও পুটিয়ায় কয়েকটি অ্যাম্বুশে মুক্তিযোদ্ধাদের নিরঙ্কুশ সফলতার কথা উল্লেখ করেছেন খালেদ মোশাররফ। বলেছেন এই অপারেশনগুলোতে হানাদার বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কথাও।  খালেদ মোশাররফ গোমতী নদীতে স্পিডবোট যুদ্ধ ও শহীদনগর ওয়ারলেস অপারেশনেও মুক্তিযোদ্ধারাই বিজয়ী হয়েছেন- সেই বর্ণনা দিয়েছেন।

দাউদকান্দি এলাকায় কয়েকটি অপারেশনে অংশ নিয়েছেন বর্তমানে বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক মেজর (অব.) কামরুল হাসান ভূঁইয়া। একান্ত সাক্ষাৎকার তিনিও জানিয়েছেন, দাউদকান্দিতে তাঁর অংশ নেয়া অপারেশনে বিজয়ী হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারাই।

শাহজাহান সিদ্দিকী বীর বিক্রমের নেতৃত্বে ১৬ আগস্ট রাতে ‘অপারেশন জ্যাকপটে’  নৌ-কমান্ডোরা ডুবিয়ে দেন দাউদকান্দি ফেরিঘাটে থাকা হানাদারদের ২টি ফেরি ও পন্টুন। এই অপারেশনে হানাদার বাহিনী নূন্যতম কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলতে পারেনি।

এরপর ২০ নভেম্বর পবিত্র ঈদের রাতে গোয়ালমারী ও জামালকান্দিতে অতর্কিত আক্রমণ করে হানাদার বাহিনী। দাউদকান্দি এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ক্যাপ্টেন এম. ওয়াদুদের নেতৃত্বে দ্রুতই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়।  দীর্ঘসময় সম্মুখযুদ্ধ চলার পর সন্ধ্যার পর সম্পূর্ণ পরাজিত হয় হানাদার বাহিনী। ৭০ জনের মত পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয় এই যুদ্ধে।  মুক্তিযোদ্ধা ও গ্রামবাসীসহ শহিদ হন ১৪ জন।

সবশেষ, ৯ ডিসেম্বর দাউদকান্দি মুক্ত দিবসের দিনে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ আক্রমণে পাকিস্তানিরা প্রতিরোধ তো দূরে থাক, দাউদকান্দিতে টিকে থাকতেই পারেনি। দুপুরের পর লঞ্চে করে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায় তারা।

তাই এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ও সংগৃহীত তথ্য বলে, দাউদকান্দিতে সবকটি যুদ্ধেই বিজয় হন মুক্তিযোদ্ধারাই। তারপরও ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা গবেষণায় বের হতে থাকে যুগের  পর যুগ ধরে। দাউদকান্দিতে অন্তত একটি যুদ্ধে হলেও যদি মুক্তিযোদ্ধারা পরাজিত হয়ে থাকে- সেই তথ্য একদিন উদ্ঘাটিত হবে নিশ্চই। তাতে সমৃদ্ধ হবে দাউদকান্দিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.