কুমিল্লা-১ আসনের পুনর্গঠন: বাধা হতে পারে আকাশ-পাতাল ভোটার ব্যবধান

648

।।নিজস্ব প্রতিনিধি।।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৬টি জেলার ৩৮টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন এনে  চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার খসড়া তালিকা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়।  একই সঙ্গে বলা হয়, কারো কোনো দাবি/আপত্তি থাকলে ১ এপ্রিল বিকেল ৫টা পর্যন্ত অাবেদন করতে পারবেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৬ মাস আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের বিষয়ে এরইমধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সংশ্নিষ্ট আসনের মন্ত্রী-এমপিরা। অনেকেই বলেছেন, এই পরিবর্তন আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ কেউ ইসির এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। ১৬ জেলার ৩৮ আসনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইসির ঘোষিত নীতিমালায় অস্পষ্টতারও অভিযোগ উঠেছে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় কুমিল্লার-১ ও ২ আসনের সীমানা নির্ধারণে দেখা দিয়েছে ভোটার সংখ্যার বিরাট পার্থক্য। খসড়ায় কুমিল্লার-১ আসনে দাউদকান্দির সঙ্গে তিতাস উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দাউদকান্দির সঙ্গে যুক্ত মেঘনা উপজেলাকে দেয়া হয়েছে হোমনার সঙ্গে, যা কুমিল্লা-২ আসন। ভৌগোলিক কারণে এমনটি করা হলেও ভোটার সংখ্যার ব্যবধান এই সীমানা নির্ধারণে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে দাউদকান্দিতে ভোটার সংখ্যা ২,৬১,১৮০, তিতাসে-১,৪৮,১৩০, মোট=৪,০৯,৩১০। অপরদিকে, হোমনার ভোটার সংখ্যা ১,৫৪,৮৭৪, আর মেঘনায় ৮৪,৪৪৬ জন। মোট= ২,৩৯,৩২০ জন।

এতে দেখা যায়, তিতাসকে দাউদকান্দির সঙ্গে যুক্ত করলে ভোটার ব্যবধান প্রায় দ্বিগুন হচ্ছে। এই বিস্তর ব্যবধান নিয়ে সীমানা নির্ধারণ অযৌক্তিক বলে মনে করছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আইনজীবী বলেন, এই প্রস্তাবের ফলে পাশ্ববর্তী ২টি আসনের ভোটার সংখ্যায় আকাশ-পাতাল ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কেউ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেই ইসির খসড়া প্রস্তাব বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ মেঘনা ও তিতাস উপজেলা দাউদকান্দি থেকে সৃষ্টি। সুতরাং এখানে আসন পুনর্গঠন- ভোটার সংখ্যার হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে করাই যুক্তিযুক্ত।’

নির্বাচনের কয়েক মাস আগে কেন এ পরিবর্তন- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা-২ আসনের সাংসদ ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল। তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ১০ বছর ধরে এ আসনে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন তিনি। হঠাৎ করে নির্বাচনের ?ছয় মাস আগে এ সিদ্ধান্ত মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসির এ সিদ্ধান্তে তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ সন্দেহের দোলাচলে দুলছে। ইসি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার এলাকার ভোটাররা এ বিষয়ে আপত্তি জানাবেন।  এ নিয়ে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। [সূত্র: দৈনিক সমকাল, ১৬ মার্চ ২০১৮]

এ বিষয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দীন বলেন, এ বিন্যাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, আদমশুমারি না হলে সীমানা বিন্যাসের সুযোগ নেই। এ যুক্তিতে তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, তার আসনটি ৩০ বছর ধরে এ অবস্থায় আছে। কারও তদবিরে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাহার বলেন, নয়টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ার ফলে তার আসনটিতে ৬৫ হাজারের মতো ভোটার বেড়ে যাবে। নির্বাচনের ছয় মাস আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। [সূত্র: দৈনিক সমকাল, ১৬ মার্চ ২০১৮]

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.