৯ ডিসেম্বর থেকে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত হই: সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহজাহান

663

।। বিশেষ প্রতিনিধি।।

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা শত্রু মুক্ত হয়। এরপর যৌথবাহিনীর টার্গেট নির্ধারণ করা হয়- ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাউদকান্দিকে। ৯ ডিসেম্বর দাউদকান্দি অভিমুখে এগিয়ে আসে ভারতীয় সেনা ও মুক্তিবাহিনী।  অবস্থা বেগতিক দেখে ৯ ডিসেম্বর শেষ বিকেলে হানাদার বাহিনী দাউদকান্দি লঞ্চঘাট থেকে ৪টি জাহাজে করে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। মুক্ত হয় দাউদকান্দি। সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্তে মুক্তিযোদ্ধারা দাউদকান্দির আকাশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ান।

সেদিন দাউদকান্দিতে কোনো যুদ্ধ সংঘটিতে হয়নি। কারণ পাকিস্তানি সেনারা প্রতিরোধ করার কোনো চেষ্টাই করেনি। নিশ্চিত পরাজয় অনুমান করে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয়নি তারা। ভয়ে পালিয়েছে।

দাউদকান্দিকে শত্রুমুক্তকরণে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৎকালীন বিএলএফ দাউদকান্দি থানা কমান্ডার সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহজাহান [২১ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএলএফ কমান্ডার নজরুল ইসলাম শহিদ হওয়ার পর মোহাম্মদ শাহজাহান দাউদকান্দি থানা কমান্ডার নিযুক্ত হন]। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘সূর্য ডুবে ডুবে সময়ে আমরা দাউদকান্দিতে পৌঁছাই। তবে সেদিন দাউদকান্দিতে কোনো যুদ্ধ হয় নি। কারণ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তখন পলায়নরত ছিল। লঞ্চঘাটে পৌঁছে পশ্চিম দিকে অনেক দূরে লঞ্চযোগে পাকিস্তানি সেনাদের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখি আমরা। বাজারে দেখলাম মুক্তিযোদ্ধারা একজনকে মারধর করতেছে। তুজারভাঙ্গার আরেকজন লোকের লাশ দেখলাম সেখানে, যার নাম আমার আর মনে নেই। সেদিন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার সমাগম ঘটে দাউদকান্দিতে। বিভিন্ন ইউনিটের কমান্ডাগণও উপস্থিত ছিলেন।

  1. শত্রুমুক্ত হওয়ার পর দাউদকান্দিতে কোনো প্রশাসন বা সরকার ছিল না। ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত হই আমরা। যেনো প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে কেউ কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত না হয়। সারাদিন শহীদনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে পাহারা দিতাম।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.