কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ অর্ধশত বাসযাত্রীদের উদ্ধার করা হাইওয়ে পুলিশের সেই সাহসী পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়াকে গতকাল শনিবার বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তার এ দুঃসাহসিকতার জন্য দেশের সাধারণ জনগণসহ পুলিশ বাহিনী গর্বিত। তার সাহসিকতার জন্য স্থানীয় মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সেক্রেটারী সেলিনা আক্তার প্রথমে তাকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কৃত করেন। তার এ অসাধারণ সাহসিকতা যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পুলিশ সুপার তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করেন। শনিবার সন্ধ্যায় হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় মতলব এক্সপ্রেস-এর একটি বাস প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় মহাসড়কের গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডের দুই সড়কের মাঝখানে ময়লাযুক্ত ডুবায় মধ্যে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। তখন হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ মিয়া বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন। হঠাৎ ওই গাড়িটি দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত পানিতে নারী-পুরুষসহ ৪০ জন যাত্রী নিয়ে পানিতে ডুবে যায়। গাড়ি পানিতে পড়ে যাওয়ার সময় যাত্রী চিত্কারে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত হওয়ায় তা দেখেও উপস্থিত জনতা কেউ উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেননি।
পরে পুলিশ পারভেজ মিয়া একাই পানিতে নেমে পড়েন। তিনি একটি গ্লাস ভেঙ্গে প্রথমে সাত মাসের একটি শিশুকে বের করেন। তিনি যখন এক এক করে নারী যাত্রীদের করছেন তখন শতশত জনতা দর্শকের মত তাকিয়ে ছিল। কেউ তাদেরকে উদ্ধার করতে আসেনি। এরপর এক এক করে ১২ জন নারী যাত্রী ২৭ জন পুরুষ যাত্রীদের উদ্ধার করার সময় হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
পেন্নাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান সেলিনা আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার স্থানটি আমার বাড়ির পাশেই বিধায় পানিতে ডুবে অনেক লোক মারা গেছে খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত পানি হওয়া অনেকগুলো প্রাণ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। কেউ তাদেরকে বাঁচানোর কেউ এগিয়ে আসেননি। তিনি জীবন বাজি রেখে একাই শিশু নারী-পুরুষসহ প্রায় ৪০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেন। তা এ সাহসিকতা দেখে আমি তাৎক্ষণিক ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেই। তার মত পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মন মানসিকতা যদি এমন হত তাহলে আমাদের দেশ আরও এগিয়ে যেত।
এ ব্যাপারে সাহসি পুলিশ পারভেজ মিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমার বাবা আবুল কাসেম একজন মুক্তিযোদ্ধা। ওনার কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধেও সময় এমন সাহসিকতা অনেক গল্প শুনেছি। তা বাস্তবে দেখেছি তাই গাড়িটি যখন ময়লাযুক্ত পানিতে পড়ে যায় তখন গাড়ির যাত্রীদের চিত্কারে শব্দ শুনে আমি স্থির থাকতে পারিনি। তখন আমি একাই পানিতে নেমে পড়ি গাড়িটির এক সাইড থেকে গ্লাস ভেঙ্গে সাত মাসে একটি শিশুকে বের করার পর ১২ নারীকে বের করে নিয়ে আসি এর পর অন্যান্যদের উদ্ধার করেছি। আমি একজন মানুষ তাই মানুষ হিসাবে মানবতার সেবা করাই আমার দায়িত্ব কর্তব্য। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আমি স্থানীয়ভাবে ৫ হাজার এবং হাইওয়ে পুলিশ সুপার মহোদয় পরিতোষ ঘোষ ওনার অফিসে ডেকে নিয়ে আজ আমাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছে। ওই আমাদের ডিআইজি আতিকুর রহমান স্যার ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সত্য আমরা পারভেজ মিয়াকে গর্বিত বোধ করি। যেখানে শত শত জনতা দর্শকের মত চেয়ে আছে আর পারভেজ মিয়া একাই যাত্রীদেরকে উদ্ধার করছেন। তার এ সাহসিকতার জন্য হাইওয়ে ডিআইজি পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সংস্থার পুরস্কার করছেন। আপনাদের মিডিয়ার কাছে আমরা ঋণি আপনারা ভালো কাজ যে করে তাকে নিয়ে ভালো লিখেন তাই এর প্রমাণ।