।।নিজস্ব প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের বর্বর গণহত্যায় শহিদদের স্মৃতিস্মরণে নির্মিত ‘রায়পুর শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ’ স্থানীয় জিংলাতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর তার বাহিনী নিয়ে ভেঙেছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাইদুজ্জামান টিপু।
বুধবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়ে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় টিপু বলেন, কিছু দিন আগে আলমগীর স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মুক্তিযুদ্ধের এই স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে ফেলে।
টিপুর আরও অভিযোগ, এর আগে, বুধবার দুপুরে গৌরীপুর বাজারে বড় মসজিদ রোডে মোবারকের দোকানে বসে সে কথা বলছিল। এসময় জিংলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর মোল্লার নেতৃত্বে একদল অজ্ঞাত যুবক তার উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দিয়ে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৩ মে রায়পুর খালে ২ জন নারীসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বছরখানেক আগে শহিদদের স্মৃতিস্মরণে রায়পুর বধ্যভূমিতে একটি স্তৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। সেখানে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর এবং গণহত্যা দিবসে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ফুল ও মোমবাতি প্রজ্বলন করা হতো। শ্রদ্ধা জানানো হতো শহিদদের প্রতি। কিন্তু গত ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭, রাতে দুর্বৃত্তরা রায়পুর স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ দুর্বৃত্তদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছে। কেউ অভিযোগ করলে অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.