প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির, বিদ্যুৎ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে। তাই বিশ্বে শেখ হাসিনা এখন উন্নয়নের রোল মডেল।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ‘সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা’; সোনার বাংলা হবে এমন একটি দেশ, যেখানে ধনী-দরিদ্রের আকাশসম ফারাক থাকবে না, সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত হবে, সবার জন্য উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত থাকবে এবং শোষণমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধশালী, অসাম্প্রদায়িক ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে উঠবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আগেই দুষ্কৃতকারীদের হাতে জীবন দেন। এমনই এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং নির্জীবপ্রায় দল গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। তার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ায়।
শেখ হাসিনা ঐক্যের প্রতীক। দলের দলাদলি এবং বহুধাবিভক্তি অনৈক্য তার আগমনে আস্তে আস্তে দূরীভূত হয়। শুধু দারিদ্র্য নয়, সামাজিক ও স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত একাধিক নির্দেশক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর তুলনায় (যেমন— ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান) শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে এনরোলমেন্ট এবং জেন্ডার সমতা অর্জনে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এসব সম্ভব হয়েছে দেশের ডায়নামিক ও হাড়খাটুনি জনগণের জন্য এবং বিশেষ করে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য।
শেখ হাসিনার দল সরকার গঠন করে এবং একের পর এক সফল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থে তৈরি হচ্ছে। আইএমএফ ও বিশ্বমাতব্বর বিশ্বব্যাংকের উপদেশ উপেক্ষা করে কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদানে কৃষি উত্পাদনে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়। ফলে দারিদ্র্য কমে, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স’ এবং জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত জাতিকে বিশ্বপরিমণ্ডলে উন্নত আসনে অধিষ্ঠিত করে।
শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ পদক্ষেপে যেখানে ১১ লাখ টন খাদ্যশস্য উত্পাদন হতো, তা এখন সাড়ে তিন গুণ বেড়ে গিয়ে প্রায় ৩৮ লাখ টন উত্পাদিত হয়। এর ফলে দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে যে প্রায় ৫৮ শতাংশ লোক জীবনযাপন করত, তা এখন কমে গিয়ে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের জন্য এটি অবিশ্বাস্য অর্জন। পৃথিবীর মধ্যে দুটো দেশে দরিদ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমেছে এবং এর মধ্যে প্রথম হচ্ছে গণচীন এবং দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার ৯ বছরে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ১৫ হাজার মেগাওয়াট অর্থাৎ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে এবং উল্লেখ্য, বৈদ্যুতিক বাতি ও জ্বালানি হচ্ছে উন্নয়নের অন্যতম প্রয়োজনীয় হাতিয়ার।
বাংলাদেশ শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে জাতিসংঘের এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশ এসব অর্জনে সফলকাম এবং তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ফলে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ‘বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেন এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা একে ‘নারী প্রগতির নক্ষত্র’ (Star of Women Empowerment) বলে সম্মান প্রদান করেন। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রায় অর্ধডজন বিরল সম্মানে ভূষিত করেন। বিশ্ব বিখ্যাত দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একে ‘Standard bearer of the South’ অর্থাৎ ‘দক্ষিণ দেশগুলোর আদর্শ’ হিসেবে চিহ্নিত করে। বস্তুত পৃথিবীর মধ্যে যে তিনটি দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে ভালো করছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে ‘প্রাইস ওয়াটারের’ গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য এক বিরল সম্মান।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চর্চা হচ্ছে। অন্তত তিনটি বড় ধরনের গবেষণায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি, বিচক্ষণতা এবং কৌশল নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুলে শিক্ষকদের লেকচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আসছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাজ এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বদলে যাওয়া।
গ্রাহাম অ্যালিসন তাঁর লেকচারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বশান্তির মডেল ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় ‘দারিদ্র্য থেকে উঠে আসা দেশগুলোতে সরকারের ভূমিকা’ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা উঠে এসেছে উদাহরণ হিসেবে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তিনি উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের সমন্বয় করেছেন। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঠিক সিদ্ধান্ত একটি জাতিকে নতুন উচ্চতা দেয়, তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ সম্ভবত বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা।’ গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা সামরিক স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটিয়েছেন।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর অনেক সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি শান্তিবাদী এবং সেক্যুলার রাজনীতির ধারাকে বেগবান করেছেন। আর্থার তাঁর সাম্প্রতিক এক নিবন্ধতেও বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা সারাবিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
পশ্চিমা শক্তিধর, যারা একসময় বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য ও ধিক্কার দিয়ে একে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা করেছেন, আজ শেখ হাসিনার দৃঢ় চিত্ততা ও নেতৃত্বের কারণে তা খণ্ডিত হয়ে ‘উন্নয়নের মডেল’ হিসেব প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছে। শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের রোল মডেল। তাই আগামী দিনের বিশ্ব নেতারা তাঁকে নিয়ে চর্চা করবে এটাই স্বাভাবিক। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে বিশ্বের অনেক কিছুই শেখার আছে। শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশ নয় এখন তিনি বিশ্বের সম্পদ।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.