সাগর থেকে আরো ৪ লাশ উদ্ধার, ২১ জনের দাফন সম্পন্ন

418

কক্সবাজারের উখিয়ার উপকূলীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে রোহিঙ্গা বোঝাই ট্টলারডুবি’র ঘটনায় শুক্রবার সকালে আরো ৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী। এর মধ্যে ৩ জন শিশু, ১জন মহিলা লাশ রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় গ্রামবাসী নারী-পুরুষ, শিশুসহ ১৭ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত মোট ২১ জন নারী-পুরুষ, শিশুর লাশ ইনানী কবরস্থানে স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী।

এসময় শতশত গ্রামবাসী আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এছাড়াও ট্টলাারডুবির ঘটনায় সাগর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের উখিয়া ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত আরো অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে উখিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ট্টলার থেকে উদ্ধার হওয়া মিয়ানমারের বুচিডং থানার মুইদং এলাকার আবুল কালাম (৪৫) জানান, আমীর সাহেব নামের একজন লোক মালয়েশিয়া থেকে ফোন করে আমাদেরকে বোটে উঠে বাংলাদেশে চলে আসার কথা বলেন। তিনি টাকা-পয়সা সব বোট মালিককে দিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। তার কথা মতে, আমরা বুধবার রাত ৮টার দিকে প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গা ওই বোটে করে মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা দিই। বোটে আমার স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ ৭ জন ছিলাম। আমি এবং আমার ২ মেয়ে জীবিত উদ্ধার হলেও স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৪০) মেয়ে শাহেদা (১৪) মারা যায়। তাদের লাশ পাওয়া গেলেও আরেক মেয়ে ছেনুয়ারা বেগম (৯) এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তাছাড়া আমার শ্যালক মোঃ কাছিমের জীবিত উদ্ধার হয়, কিন্তু তার স্ত্রী শাহজান খাতুন (৩৫) এবং তাদের আড়াই বছরে শিশু রুখিয়া ও আরেকটি ১ বছরের ছোট শিশু মারা যায়।

মিয়ানমারের বুচিদংয়ের মুইদং এলাকার জামাল হোসেনের স্ত্রী রাশেদা বেগম(২৩) জানান, তিনি কোন রকম কূলে আসতে সক্ষম হলেও তার ৭ মাসের মোহাম্মদ হোসাইন নামের এক ছেলে সন্তান ছিটকে পড়ে সাগরে নিখোঁজ হয়ে যায়। এসম এ প্রতিবেদক কয়েকটি শিশুর লাশের ছবি দেখালে তিনি তার ছেলেকে চিনতে পারেন। এসময় তার আহাজারিতে পুরো হাসপাতাল ভারী হয়ে উঠে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোস্তাক মিয়া বলেন, বৃস্পতিবার বিকেলে সাগরে মাছ শিকার করতে গেলে একটি ট্টলার উপকুলে দিকে ভেসে আসতে দেখা যায়। পরে সেখানে গিয়ে কোন লোকজন দেখতে না পেয়ে একটু ভয় সৃষ্টি হয়। কিন্তু সাগরের অদূরে কয়েক লোক জীবিত ভাসতে দেখে তিনি পাটুয়ারটেক এলাকার আরো কয়েকজনকে খরব দেন। ততক্ষণে সাগরে ঢেউয়ের সাথে উপকূলে ভেসে আসতে শুরু করে জীবিত ও মৃত লাশের সারি।

উদ্ধারকর্মী স্থানীয় রেড ক্রিসেন্টের সেচ্ছাসেবক ও পল্লী চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল আজিজ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাগর থেকে ২১ জনের মৃত দেহ উদ্ধার করেছি। এসময় প্রশাসনের সহযোগিতায় মুমূর্ষু অবস্থায় ১৮ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া লাশগুলো স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় উপকূলের ইনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আর জীবিত উদ্ধারকৃতদের উখিয়া ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.