ডেডলাইন ৮ ফেব্রুয়ারি : দাউদকান্দির পরিস্থিতি

584

।।বিশেষ প্রতিনিধি।।

রাত পোহালেই ডেডলাইন ৮ ফেব্রুয়ারি। আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন । সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অজানা আতঙ্ক ও উদ্বেগ। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের দিকে তাকিয়ে আছেন পুরো দেশ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার রায় এদিন। সবার নজর থাকবে আদালতে। এ রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলসহ সব অঙ্গনেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। চায়ের কাপে উঠছে ঝড়। কি হবে এদিন! রায়ে সাজা হলে এর পরবর্তী পরিস্থিতি কিভাবে নেবে বিএনপি। কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে, তা কিভাবে মোকাবেলা করবে সরকার। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এরমধ্যেই বলা হয়েছে, মামলার রায় ঘোষণার দিন ঢাকায় সভা, মিছিল এবং ছুরি-লাঠির মতো অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ। ওই দিন ভোর চারটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানানো হয়।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এই উত্তাপ ছড়িয়েছে ঢাকার বাইরেও।বিশেষ করে রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা ও ‍উপজেলায়। ঢাকার কাছেই কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা। সেখানেও ডেডলাইন ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকাশ,  উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং আওয়ামী লীগ-বিএনপির নানা নিজ নিজ প্রস্তুতি।

স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকেই বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আবার কাল ঢাকা আসার চেষ্টা করবেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয়বাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় একজন নেতা (স্থানীয় বাসিন্দা) জানিয়েছেন, ‘কিচ্ছু করা নাই। বাধা আসবে। ঝুঁকিও আছে। কিন্তু মাঠে থাকতেই হবে আমাদের।’

অপরদিকে, ৮ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্ণীতি মামলার রায়কে ঘিরে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতার আশংকাকে প্রতিহত করতে বিশেষ বর্ধিত সভা করেছে দাউদকান্দি উপজেলা  আওয়ামী লীগ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অংশ নেন:  উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আহসান হাবীব চৌধুরী লিল, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল বাশার ভান্ডারী, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন, সহসভাপতি এসএম কেরামত আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার খোরশেদ আলম,  মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জেবুন্নেছা জেবুসহ ১৫টি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ।

ছবি : ৮ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্ণীতি মামলার রায়কে ঘিরে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতার আশংকাকে প্রতিহত করতে উপজেলা আওয়ামী লীগের  বিশেষ সভা।

সভায় আগামীকাল ৮ই ফেব্রুয়ারি বিএনপির সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশংকাকে প্রতিহত করার জন্য তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীকে রাজপথে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে, এরমধ্যে স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ঢাকা ও দাউদকান্দি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। এমতাবস্থায় দাউদকান্দিতে আগামীকালের পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থেকে যাচ্ছে জনমনে। গেীরীপুর বাজারের ২ জন ব্যবসায়ী জানান, কাল দোকানের মালামাল আনার জন্য ঢাকায় আসার চিন্তা বাদ দিয়েছেন। এদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আশপাশ এড়িয়ে চলবেন বলেও জানান তারা।

এই অবস্থায় শুধু ঢাকায়ই নয়, দেশের সর্বত্রই সহিংসতা ও সংঘাত এড়াতে  সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানেয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.