দাউদকান্দিতে সন্ত্রাসীদের হাতে উপজেলা যুবলীগ নেতাকে দিন-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা

0 603

দাউদকান্দি উপজেলা সদরে এক দল সন্ত্রাসী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন রাজন(৩৫)’কে নির্মম ভাবে হাত-পায়ের রগ কেটে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক থেকে দাউদকান্দি উপজেলার সদরের বলদাখাল রাস্তার মোড়ে। নিহত যুবলীগ নেতা আমির হোসেন রাজন(৩৫) উপজেলা কাজিরকোনা গ্রামের দুলাল মুন্সির পুত্র এবং এক সন্তানের জনক। সে সাবেক কুমিল্লা পলিটেকনিক্যালের ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে উপজেলা যুগ্ন আহবায়ক এবং ঠিকাদারী ব্যবসা ছিল। যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র এবং পুলিশের নিকট থেকে জানা যায়, গ্রামের বাড়ি কাজিরকোনা থেকে দাউদকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শতবর্ষী উদযাপনের প্রস্তুতি সভার অনুষ্ঠানে যাওয়ার কালে সদরের বলদাখাল রাস্তার মোড়ে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী তাকে ঘেরাও করে। ওই সময় সে পালানো চেষ্ঠা করলে সন্ত্রাসীরা তাকে ধরে প্রকাশ্যে দিবালোকে চাপাতি ও রামদা দিয়ে যুবলীগ নেতা আমির হোসেন রাজনের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় এবং হাটু থেকে গোড়ালী পর্যন্ত মাংস কেটে ফেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তার চিৎকারের পথচারীরা এগিয়ে এসে তাকে একটি রিক্সা করে থানার সমাননে নিয়ে যায়। পরে দলীয় লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকগণ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তারগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয় বলে তার পরিবারের লোকজন জানায়। এক সন্তানের জনক রাজন স্থানীয় কাজিরকোনা গ্রামের দুলাল মুন্সির পুত্র। কতিপয় লোকের শত্রুতার কারণে নিজ গ্রামে বসবাস করা খুবই ঝুকিপূর্ণ ছিল বিধায় সে গৌরীপুরে বাসা নিয়ে থাকতো। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বিধায় বলদাখাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গৌরীপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোঃ আল-আমিন মিয়াজী বলেন, যুবলীগ নেতা রাজনের হাত-পায়ের রগ কেটে ফেলায় এবং হাটু থেকে গোড়ালী পর্যন্ত মাংস কেটে ফেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয়েছে।
নিহত বড় ভাই সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ বিল্লাল হোসেন এর সাথে কথা বলার চেষ্ঠা করলে আদরের ছোট ভাই রাজনকে হারিয়ে কথা বলার বাক শক্তি হারিয়ে ফেলেন। তারপরও তার সাথে আলপকালে তিনি বলেন, আমার ভাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে বিধায় তার কিছু শত্রু রয়েছে। ওই সন্ত্রাসীরা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আজ দলীয় সরকারের আমলেই আমার ভাইকে প্রকাশ্যেদিবালোকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার ও ফাসি দাবী জানাই।
দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যা কান্ড ঘটেছে বলে তিনি জানান। খুনিদের ধরতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এ হত্যাকান্ড ঘটনা নিয়ে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় তাই ভিবিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য গত দুই মাসে দাউদকান্দি উপজেলায় প্রকাশ্যে দিবালোকে জোড়াখুনসহ ৪টি হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই হত্যা কান্ডগুলোর কোন একটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় একটির পর একটি দিন দুপুরের প্রকাশ্যে হত্যা কান্ড ঘটনা ঘটায় দাউদকান্দিবাসী চরম হতাশায় দিনযাপন করছেন। সুশিলরা মনে করেন বর্তমানে দাউদকান্দির আইন শৃঙ্খলা চরম অবনতি ঘটছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.