নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর

628

বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং এদেশের নারীদের কর্মস্পৃহা, দক্ষতা ও ত্যাগের ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নারীর অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে নারী সমাজের অগ্রসরতার বিস্ময়কর সফলতা অর্জনের ফলে বাংলাদেশে আজ নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বে ‘রোল মডেল’ এ পরিণত হয়েছে।রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী অংশগ্রহণের মান হিসেবে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ অবস্থানে।দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নারীর সম্পৃক্ততা বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন। নারীর অধিকার নিশ্চিতে ২০১১ সালে ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি’ প্রণয়ন করে বর্তমান সরকার। এছাড়াও ‘পারিবারিক সহিংসতা আইন ২০১০’, ‘পারিবারিক সহিংসতা বিধিমালা ২০১৩’, ‘ডিএনএ আইন ২০১৪’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩ থেকে ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপর প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে নারীর সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মধ্যে দিয়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের এক মাইলফলক রচিত হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাসে উন্নীতকরণসহ মাতৃত্বকালীন ভাতা, ল্যাকটেটিং মাদার ভাতা এবং ডে-কেয়ার চালুর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নারীর অধিকার বৃদ্ধি করে সরকার। এছাড়াও বয়স্ক ভাতা, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত ও নির্যাতিত নারীদের ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা চালু করে সরকার।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সাফল্যের সঙ্গে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন নারীরা। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে হিমালয়ের সর্ব্বোচ্চ শৃঙ্গে নারীরা উড়িয়েছে বাংলাদেশের বিজয় পতাকা । শুধু তাই নয়, নারীদের সাফল্যে আজ সমৃদ্ধ হচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাস ।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে জেলা-উপজেলায় ৬০টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল হেল্পলাইন-১০৯ চালু করা হয়েছে। আর ভিজিএফ, ভিজিডি ও জিআর কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে রাজনীতি, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, সশস্ত্র বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সর্বক্ষেত্রে নারীরা যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন।

নারীর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান ও ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার ফলে শুধু দেশেই নয় দেশের বাইরেও নারীরা রাখছেন স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণা ‌‌। বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য নারীর ক্ষমতায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আর এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ও ‘এজেন্ট অভ্ চেঞ্জ’অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন।

নারীর ক্ষমতায়নে সাফল্যের জন্য বিশ্বে প্রশংসার নাম এখন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.