৯ ডিসেম্বর দাউদকান্দি মুক্তি দিবসে বিভিন্ন কর্মসূচি

514

৯ ডিসেম্বর কুমিল্লার দাউদকান্দি হানাদার মুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দাউদকান্দি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে ৯ ডিসেম্বর শনিবার বিকাল ২ ঘটিকায় দাউদকান্দি সদরে যারিফ আলী শিশু পার্কে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা’র আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) মো. সুবিদ আলী ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি থাকবেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী ও দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. খোরশেদ আলম।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বিত আক্রমণের মুখে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করলে দাউদকান্দির মুক্তিযোদ্ধারা মানসিকভাবে দ্বিগুন শক্তিশালী হয়ে উঠে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ, শহীদনগর ওয়ারল্যাস কেন্দ্রে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের দাউদকান্দিস্থ ডাক বাংলোতে অবস্থানরত পাক সেনাদের টার্গেট করে উত্তর ও দক্ষিণ পার্শ্ব হতে এক যোগে আক্রমন শুরু করে। মোহাম্মদপুর, ডাকখোলা, গোয়ালমারী, বাতাকান্দি প্রভৃতি এলাকার ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধারা অগ্রসর হতে থাকে, পূর্ব দিক হতে মিত্র বাহিনীর আর্টিলারীর কাভারিং ফায়ার ফ্রন্টে থেকে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করলে পাক সেনারা পশ্চিম দিকে পিছু হটতে থাকে। মিত্র বাহিনীর সেলিং এর কারণে শহীদনগনর ওয়ারল্যাস এলাকা ছেড়ে পাক সেনারা দাউদকান্দি সদরের দিকে দৌড়াতে থাকে।

৮ ডিসেম্বর দিবাগত সমস্ত রাত এবং ৯ ডিসেম্বর সকাল ১১ টা পর্যন্ত যুদ্ধের পর পাক সেনারা দাউদকান্দিতে তাদের শেষ আশ্রয়স্থল সড়ক ও জনপথের বাংলোতে উঠে এবং সেখান থেকে লঞ্চ যোগে মেঘনা নদী দিয়ে গজারিয়া হয়ে ঢাকায় পালিয়ে যায়। হানাদার মুক্ত হয় দাউদকান্দি। এদিন দুপুরে মুক্তিযোদ্ধারা দাউদকান্দি পৌঁছে, দাউদকান্দিতে স্বাধীন বাংলা লাল সবুজ পতাকা উড়ায়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.