৭১-এ পাকিস্তানি তাণ্ডবের সাক্ষী দাউদকান্দির স্বপাড়া জমিদার বাড়ি

424

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৯ মাসে বাংলাদেশের অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর পুড়িয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বাড়িঘর পোড়ানোর আগে প্রায় সবজায়গাতেই লটুপাট চালাতো তারা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এমনই তাণ্ডবের সাক্ষী কুমিল্লার জেলার দাউদকান্দি উপজেলার স্বপাড়া জমিদার বাড়ি (স্থানীয় নৈয়ার বাজার সংলগ্ন)।

 

১৯৭১ সালের বাংলা ভাদ্র মাসে এই জমিদার বাড়িতে হানা দেয় পাকিস্তানিরা।সেদিন বাড়িতে প্রবেশ করেই লুটপাট চালায় হানাদাররা। এরপর বাড়ির প্রবেশ পথে মন্দিরে আগুন দেয়। পরে পুরো জমিদার বাড়িতেই আগুন লাগিয়ে দেয় তারা।

 

ভয়াল সেদিন অনেকটা ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান জমিদার বাড়ির গৃহবধূ খুশী পোদ্দার। হানাদার বাহিনী বাড়িতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন তিনি। রক্ষা পায় এই গৃহবধূর ইজ্জতও।

ছবি : বাড়ির প্রবেশ পথে পাকিস্তানি সৈন্য কর্তৃক জ্বালিয়ে দেয়া মন্দিরের বর্তমান রূপ।

 

সেদিনকার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী খুশী পোদ্দার জানান, হানাদার বাহিনীর বাড়িঘর জ্বালিয়ে চলে যাওয়ার পর গোপনে বাড়ি এসে দেখেন, সব পুড়ে ছাঁই। লুট করে নিয়ে গেছে বাড়ির ভেতরের ঘরে থাকা টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার। পরে তারা ভারতে চলে যান শরণার্থী হয়ে। দেশ স্বাধীন হলে দেশে আসেন।

 

স্বপাড়া জমিদার বাড়ির কারোই এখন আর জমিদারী নেই। এই বংশের প্রায় সবাই এখন ভারতে বসবাস করেন। তাই জমিদার বাড়িকে এখন লোকজন পোদ্দার বাড়ি বলে।

 

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধকালীন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হিসেবে কখোনই কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পাননি বলে জানান খুশী পোদ্দার। বর্তমানে তারা কোনো রকম জীবন-যাপন করছেন বলেও জানান তিনি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.