নৌকার সভায় না এলে অসহায়দের ভাতার কার্ড বাতিল ও ছিনিয়ে নেয়ার হুমকি !!

0 1,307

 

||নিজস্ব প্রতিনিধি||

কুমিল্লা -১(দাউদকান্দি -তিতাস) আসনে সরকারি ভাতাভোগী ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুরের সভায় অংশ না নিলে নির্বাচনের পর ভাতার কার্ড বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় এক নেতা ও কাউন্সিলর।

 

আজ শনিবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৩)সকালে দাউদকান্দি উপজেলার পৌর সদরে নৌকা প্রতীকের পক্ষে একটি মিছিলের পর ভোটারদের উদ্দেশে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে।

সরকারি সুবিধাভোগী বয়স্কভাতা কার্ডধারী তফুরা বেগমের ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন অনেকে। তবে

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, এই শুনেন আমরা নৌকা মার্কার মিছিলে না গেলে আমাদের বয়স্ক ভাতার কার্ড দিত না!! আমরা গরিব মানুষ নৌকা মার্কায় তখন কার্ড দিল ক্যারে এখন আবার কাইরা নিতে চায়। আমরা সরল সোজা মানুষ, আমরা প্যাচ বুঝিনা। আমরা খুইজ্জা- মাইগ্গা খাই, আমগো ছেলে সন্তানরা ভাত দেয় না, মানুষের বাড়িতে ভাড়া থাহি। এখন আবার এই কার্ড কাইরা নিলে না খাইয়া থাকতে হইবো।।

এমন আতঙ্ক মুলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, সাধারণ মানুষের মাঝে বিরত সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য,প্রার্থী কিংবা ভোটারের অবাধ ভোটাধিকার প্রয়োগে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করে বা প্রভাব খাটায়, তখন তাকে ‘অনুচিত প্রভাব’ হিসেবে অভিহিত করা হবে। দন্ডবিধির ১৭১গ ধারা অনুসারে, প্রার্থী, ভোটার কিংবা প্রার্থী-ভোটারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির (যেমন প্রার্থী কিংবা ভোটারের নাবালক সন্তান) বা সম্পত্তির যদি কেউ অবৈধ ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেন তাহলে তাকে ‘অনুচিত প্রভাব’ বলা হবে। সুতরাং, ভোট দিতে বা ভোট না দিতে বাধ্য করার জন্য কেউ যদি কোনো ভোটারের সন্তানকে অপহরণ কিংবা মা-বোনকে যৌন হয়রানির হুমকি দেন কিংবা তার ফসলের ক্ষতিসাধন করতে চান, তখন এ ধরনের কাজ অনুচিত প্রভাবের আওতায় পড়বে। আবার কেউ যদি এই ভয় দেখান যে তার কথামতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করা না হলে প্রার্থী, ভোটার কিংবা প্রার্থী-ভোটারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি (যেমন প্রার্থী কিংবা ভোটারের নাবালক সন্তান) বা সম্পত্তি স্বর্গীয় অসন্তুষ্টি কিংবা আধ্যাত্মিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে, সে ক্ষেত্রে এ ধরনের ভীতি প্রদর্শনকেও ‘অনুচিত প্রভাব’ বলা হবে। সুতরাং, অমুককে ভোট দিলে বা না দিলে খোদার অভিশাপ পড়বে এ রকমের কথা রটিয়ে দেয়াও ‘অনুচিত প্রভাব’ হিসেবে বিবেচিত হবে। ১৭১চ ধারা অনুসারে, এ ধরনের অনুচিত প্রভাবের জন্য এক বছরের কারাদন্ড কিংবা আর্থিক দন্ড বা উভয়বিধ সাজা পেতে হতে পারে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.