||নিজস্ব প্রতিনিধি||
ভিক্ষার জমানো টাকা মহামারীতে দুর্ভোগে পড়া মানুষের সহায়তায় দান করে এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই পাকা ঘর পাচ্ছেন শেরপুরের নাজিমুদ্দিন।
করোনাভাইরাস মহামারীতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের সহায়তায় দীর্ঘ দিনের জমানো ১০ হাজার টাকা দান করা শেরপুরের সেই ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা বাড়িতে উঠছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোববারই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে নতুন বাড়ির চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে শনিবার জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ জানিয়েছেন।
ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের নজিমুদ্দিন (৮০) ভিক্ষা করে সংসার চালান। বসতঘর মেরামত করার জন্য দুই বছর ধরে জমিয়েছিলেন ভিক্ষার ১০ হাজার টাকা। ওই টাকা তিনি কোভিড-১৯ মহামারীতে ঘরবন্দি কর্মহীন মানুষের জন্য দান করেন। এরপর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নাজিমুদ্দিনকে ভিটেমাটি ও পাকা বাড়ি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রুবেল মাহমুদ জানান, বৃদ্ধ ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন আগে নিজ গ্রামে একটি সরকারি খাস জমিতে একটি কাঁচা ঘরে বসবাস করতেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সেখানে ১৫ শতাংশ জমি দেওয়া হয়েছে। ওই জমিতে তাকে দুই কক্ষের একটি পাকা ঘরও করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তাকে যেন আর ভিক্ষা করতে না হয় সেজন্য তার বাসা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে স্থানীয় বাজারে একটি পাকা দোকানও করে দেওয়া হয়েছে। এই দোকানের আয় দিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
এরইমধ্যে নজিমুদ্দিন ও তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ইউএনও রুবেল বলে, “তার কাছ থেকে এই সমাজের মানুষের অনেক কিছু শেখার আছে। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করে যাব।”
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন বাড়ির চাবি ও দোকান পেতে যাওয়া বৃদ্ধ ভিক্ষক নজিমুদ্দিন এখন খুব আনন্দিত।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে বাড়ি ঘর দোকান সব দিল। এখন আর আমার ভিক্ষা করার লাগবো না। দোকানে মাল তুলে সেটা বিক্রি করে আয় করমু।”
নাজিমুদ্দিন বলেন, “আমার ছয় সন্তান। তাদের সংসারেও অনেক অভাব। এতদিন তারা সংসার চালাতে আমারে কিসু পয়সা দিত। কিন্তু তারপরও আমাকে ভিক্ষা করে আয় করতে হত। এখন আমি দোকানে বসুম।”
বাড়ির বর্ণনা দিতে গিয়ে এক সময় ভাঙা বেড়ার ঘরে থাকা নজিমুদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আগে যেখানে থাকতাম ঝড় বৃষ্টিতে অনেক কষ্ট হইতো। ঘরে পানি চলে আসতো। এখন যেই বাড়িটা পামু ওইটা পাকা।
“সেখানে রান্না ঘর, গোসলখানা, থাকার ঘর সবই আছে। আমার পরিবারের আর কোনো কষ্ট থাকবো না।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ইচ্ছা জানিয়ে তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।