এবার চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী (অব:)। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পরপর দুইবার কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার ১১ জন শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যানদের কার্যক্রম বিবেচনা করে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী (অব:) কে বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছে।
এক প্রতিক্রিয়ায় চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী (অব:)বলেন , ‘আমি মনে করি এই অর্জন আমার একার নয়, এই অর্জন দাউদকান্দিবাসী সকলের’। তিনি আরো বলেন, এমন সম্মাননা আগামীতে আরও ভালো কিছু করার প্রেরণা দেয়।
উল্লেখ্য যে,মেজর মোহাম্মদ আলী (অব:)দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুতায়তন করে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান করার পদ্ধতি চালু করা সহ প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলগামী করতে নানান কার্যক্রম করেছেন।
তিনি ১১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ রুমের ব্যবস্থা করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয় মূখী করতে প্রতিটি ক্লাশ রুমে বিভিন্ন রং বেরংয়ের রং করিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে মিনি পার্কের ব্যবস্থা করেছেন। সেখানে দোলন ও স্লিপারের ব্যবস্থা করা আছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে গিয়েই দোলনা ও স্লিপারে খেলাধুলা করে আস্তে আস্তে স্কুলে প্রবেশ করে।
তিনি তথ্যবহুল একটি বই প্রকাশ করেছেন। যেখানে ১৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্যচিত্র সহ প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকার মোবাইল নাম্বার, বিদ্যালয়ের ইতিহাস, বিদ্যালয়ের ছবি ও ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা দেওয়া আছে।
তিনি মিড ডে মিল স্থায়ী করার লক্ষ্যে দাউদকান্দি উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ১লা জানুয়ারী তারিখে নতুন বই বিতরণের সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ১টি করে টিফিন বক্স দিয়েছেন । ইতোমধ্যে তিনি শিক্ষার্থীদের ৩০,০০০ টিফিন বক্স বিতরণ করেছেন । টিফিন বক্স পাওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের বিরতির সময় বাড়িতে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়েছে এবং তাদের দৈনিক উপস্থিতি সুনিশ্চিত হয়েছে।
তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে দাউদকান্দি উপজেলার ১৭টি স্কুল, ১০টি কলেজ ১২টি প্রাইমারী স্কুল ও ১২টি মাদ্রাসা সহ মোট ৫১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১০৫ জন শিক্ষক ও আনুমানিক ৪১৪০ জন শিক্ষার্থী এবং মেঘনা উপজেলার ০৫টি স্কুল ও ০২টি কলেজ সহ মোট ০৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৮০ জন শিক্ষক ও আনুমানিক ৫৬০ জন শিক্ষার্থী অর্থ্যাৎ সর্বমোট ৫৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২৮৫জন শিক্ষক ও আনুমানিক ৪৭০০ জন শিক্ষার্থী রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন সরাসরি প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে শিক্ষা সফর সম্পন্ন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
জানাগেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রকৃত ইতিহাস কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের মাঝে তুলে ধরতে এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের বিকাশ, গনতন্ত্রের চর্চা ও গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তুলতেই মূলত তিনি এই শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করেন।
উল্লেখ্য যে, মেজর মোহাম্মদ আলী (অব:) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব:) মো: সুবিদ আলী ভূঁইয়া এমপি’র জেষ্ঠ্য সন্তান।




মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.