কেউ নাটকের মহড়া দিচ্ছেন, কেউ বিতর্ক করছেন, কেউবা গান শিখছেন। এরকম ১২টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রমে প্রতিদিনই উৎসবমুখ থাকে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ। শিক্ষার্থীদের এসব সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতনরা। এ সংগঠনগুলো জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নেতৃত্ব দিচ্ছে।
১৮৯৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন জমিদার রায় বাহাদুর আনন্দ চন্দ্র রায় কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে এ কলেজটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে। ১৯৬২ সালে এ কলেজ উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি শাখায় বিভক্ত হয়। বর্তমানে এ কলেজে ২৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
একাডেমিক কাজের গতির পরিসর বৃদ্ধি হওয়া এবং কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটিকে ২টি শাখায় রূপান্তরিত করা হয়। একটি উচ্চমাধ্যমিক শাখা এবং অপরটি ডিগ্রি শাখা। কুমিল্লা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উচ্চমাধ্যমিক শাখাটি রানীর দিঘির পশ্চিমপাড়ে প্রায় ৭ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে ডিগ্রি শাখাটি স্থানান্তর করা হয়েছে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ধর্মপুরে। যা প্রায় ২২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এ কলেজে একাধিক সংগঠন থাকলেও এখন ১২টি সংগঠন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কাজের চর্চা করছে। সেগুলো হচ্ছে বিএনসিসি (সেনা), বিএনসিসি (বিমান), রেড ক্রিসেন্ট, ভিক্টোরিয়া কলেজ বিতর্ক পরিষদ, ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার, রোভার স্কাউটস, ক্যাম্পাস বার্তা, রক্তদাতা সংগঠন বাঁধন, নোঙর, বোটানি সোসাইটি, ক্যারিয়ার ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব। বিজ্ঞান ভবন-১ এর নিচতলায় বিএনসিসি (সেনা), বিএনসিসি (বিমান), রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউটস ও বোটানি সোসাইটির অফিস। সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সংগঠনের কক্ষে গান, আবৃত্তি আর আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত। বেশি জমজমাট মোতাহের হোসেন লাইব্রেরি ভবনের নিচতলা। একদিকে ভিক্টোরিয়া কলেজ বিতর্ক পরিষদ এবং অন্যদিকে ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার তাদের মহড়া নিয়ে ব্যস্ত।
পরীক্ষা ভবনের নিচতলায় কলেজের ম্যাগাজিন ক্যাম্পাস বার্তার অফিস। সেখানে নতুন লেখকদের লেখার বিষয়ে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
ক্যাম্পাস বার্তা সম্পাদক আলাউদ্দিন আজাদ বলেন, আমরা মেধার বিস্ফোরণ ঘটানোর একটি প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছি। এখানে লেখালেখি করে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে।
ভিক্টোরিয়া কলেজ বিতর্ক পরিষদের সভাপতি মতিউর রহমান সবুজ বলেন, যুক্তিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে ভিক্টোরিয়া কলেজ বিতর্ক পরিষদ। আমরা জাতীয় পর্যায়েও একাধিক সাফল্য পেয়েছি।
ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান, মননশীল মানুষ গড়তে কাজ করছে ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার। আমরা ইতিমধ্যে ২৬টি নাটক প্রযোজনা করেছি, ২১০টি মঞ্চায়ন করেছি। কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমরা সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছি। দেশের বাইরেও আমরা নাটক করেছি।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু তাহের বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি আমরা সহ-শিক্ষা কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করছি। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে অফিস দেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন সময় আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তারা জাতীয় পর্যায়েও সুনাম অর্জন করেছে।