দাউদকান্দি আওয়ামী মহিলা লীগের ভয়ে, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টয়লেটে আশ্রয় গ্রহণ

আজ ঢাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কুমিল্লা উত্তর জেলা ও দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের ঢাকাস্থ নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় আওয়ামী লীগের দুই বারের মনোনীত এম পি জনাব মেজর জেনারেল (অব:) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী জনাব আবদুস সবুর এবং আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রকে দাওয়াত না করায়, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব আউয়াল সরকার সহ কুমিল্লা উত্তর জেলার দাউদকান্দির প্রতিনিধিত্বকারী নেতৃবৃন্দের উপর চড়াও হয়, দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং মহিলা লীগ সহ সকল অঙ্গ সংঠনের নেতৃবৃন্দ।

দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগ এর আরেকটি অসাংগঠনিক ও গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কমিটি ঘোষনার লক্ষে আজ গোপনে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নেতৃত্বে ঢাকায় একটি রেস্টুরেন্টে মতবিনিময় সভা ডাকে।

সভায় দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংঠনের কোন নেতাকর্মীদের দাওয়াত করা হয়নি।বিষয়টি জানা জানি হলে গোপন সভায় কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তার জন্য দাউদকান্দি আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকার মতবিনিময় সভায় ছুটে যান।

দাউদকান্দি থেকে আগত দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সকাল ১০ টার মধ্যে উপস্থিত হন এবং রেস্টুরেন্ট এর ম্যানেজারের নিকট দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মুক্তার হোসেন ভূইয়া যোগাযোগ করলে, ম্যানেজার বলেন সকাল ১০ টায় সভা হবার কথা থাকলেও আজকে এই সভা হচ্ছে না।

দুপুর ১২ টা বাজলেও কুমিল্লা উত্তর জেলার দাউদকান্দির প্রতিনিধিত্বকারী নেতৃবৃন্দের দেখা মেলেনি।১২:৩০ মিনিটে জনাব আব্দুল আউয়াল সরকার ও তার নতুন বানানো অসাংগঠনিক ও গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কমিটি পুলিশ প্রহরায় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেন। প্রবেশ পথে মহিলা লীগের নেত্রীদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হট্টগোল শুরু হয়, তখন পুলিশ এসে জনাব আব্দুল আউয়াল সরকারকে রেস্টুরেন্টের উপরে নিয়ে যায়।

১২:৪০ মিনিটে দাউদকান্দি উপজেলা মহিলা লীগ ও দাউদকান্দি থেকে আগত আওয়ামী লীগ নেতারা সভায় প্রবেশ করতে চাইলে জনাব আব্দুল আউয়াল সরকারের লোকেরা বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সভাস্থলে প্রবেশ করেন। সভায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব আব্দুল আউয়াল সরকার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনাব আব্দুল মান্নান জয়, জনাব বশির মিয়াজী,জনাব মহিউদ্দিন সিকদার, জনাব বাদল রায় সহ আরো কয়েক জন নেতা।

১৩:২০ মিনিটে দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের স্ব ঘোষিত সাধারন সম্পাদক জনাব মহিউদ্দিন সিকদার সভা পরিচালনা শুরু করেন। বক্তব্য রাখেন জনাব আব্দুল আউয়াল সরকার, জনাব বাদল রায়, জনাব বশির মিয়াজী ও জনাব মহিউদ্দিন সিকদার। জনাব মহিউদ্দিন সিকদার শুরুতেই তার বক্তব্যে বলেছেন, আজকের সভায় সকল আওয়ামী লীগ নেতারা মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।

জনাব বশির মিয়াজী তার বক্তব্যে বর্তমান এম পি সুবিদ আলী ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেন। জনাব বশির মিয়াজির বক্তব্য শেষ হলে দাউদকান্দি থেকে আগত আওয়ামী লীগ নেতারা কথা বলতে চাইলে তাদেরকে কোন সুযোগ দেওয়া হয়নি। জনাব বশির মিয়াজী ও জনাব মহিউদ্দিন সিকদারের আগে বক্তব্য রাখেন জনাব আব্দুল মান্নান জয়।

সভার শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি বুঝে উপস্থিত হন জনাব বাদল রায়। তিনি তার বক্তব্যে ভূঁইয়া পরিবারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন। সবশেষে জনাব আব্দুল আউয়াল সরকার তার বক্তব্যে ঘোষনা দেন, দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব লীল মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব মহিদ্দিন সিকদার। এখানে উল্লেখ্য যে, ঘোষিত সভাপতি জনাব লীল মিয়া , সভায় উপস্হিত ছিলেন না। পরবর্তীতে জানা যায়, উনি সেই সময় , মাননীয় এমপি জনাব মেজর জেনারেল (অব:) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার বাসায় অবস্হান করছিলেন।

এমন অসাংগঠনিক ও গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কমিটি ঘোষনার সাথে সাথে আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী জনাবা জেবুন নেছা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরে মহিলা নেত্রীকে থামিয়ে তার বক্তব্য আবার শুরু করেন, বক্তব্যের পর জনাব আব্দুল মান্নান জয় অসাংগঠনিক ও গঠনতন্ত্র বহির্ভূত বিতর্কিত কমিটির সকলের নাম ঘোষণা করেন। জনাব আব্দুল আউয়াল সরকারের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আক্তারুজামান লাভলু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জনাব এস এম কেরামত আলী।

তখন পরিস্হিতি অগ্নিময় হয়ে উঠে। জনাব আব্দুল আউয়াল সরকার মহিলা লীগের নেত্রীদের উদেশ্য কটুক্তি করাতে, মহিলা লীগের নেত্রীরা উনাকে মারতে উদ্দত্য হন, তখন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব আব্দুল আউয়াল সরকার ভয়ে, রেস্টুরেন্টের টয়লেটে আশ্রয় নেন।

পরবর্তীতে মহিলা নেত্রীবৃন্দ জনাব আব্দুল আউয়াল সরকার, জনাব বাদল রায়, জনাব বশির মিয়াজী ও জনাব মহিউদ্দিন সিকদারকে দাউদকান্দিতে উনাদেরকে “অবাঞ্ছিত” ঘোষনা করেন এবং রাস্তায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন জনাব আব্দুল আউয়াল সরকারকে ধরার জন্য, আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন “আউয়াল এর চামড়া তুলে নিব আমরা”, “দাউদকান্দির মাটি জেনারেল ভূঁইয়ার ঘাঁটি”। সেই সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

Comments (0)
Add Comment