স্বাস্থ্য সেবায় চট্টগ্রাম বিভাগে ১ম এবং সারাদেশে ২য় হয়েছে দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বদলে যাওয়া হাসপাতাল গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 

কুমিল্লা জেলার  দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য সেবায় চট্টগ্রাম বিভাগে গত ছয় মাস ধরে ১ম এবং সারাদেশে দুইবার ২য় হয়েছে। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্মেলনে হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো জালাল হোসেন।  এসময় উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর  মোহাম্মদ আলী সুমন (অব:)। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই হাসপাতালটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে এবং অচিরেই শতভাগ দালাল মুক্ত  করা হবে।

জানা গেছে, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ছয় উপজেলার কেন্দ্রস্থল হওয়ায় হাসপাতালটিতে রোগীদের ভীড় থাকে সবসময়। কিছুদিন আগেও  হাসপাতালের সামনের বিশাল পুকুরটি  ময়লা-আবর্জনার ভাগারে পরিণত হয়েছিল। পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত পুকুরটির জন্য হাসপাতালে সুস্থ মানুষ এলেও যেন অসুস্থ হওয়ার যোগাড় হতো। এর উপর দালাল আর ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যে রোগীরা ছিল এক প্রকার অসহায়।

দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর  মোহাম্মদ আলী সুমন (অবঃ) দায়িত্ব নেয়ার পর হাসপাতাল পরিদর্শন করতে এসে তাঁর চোখে পড়ে হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। প্রথমে তিনি ময়লা পানিযুক্ত পুকুরটি পরিস্কার করান। এরপর  প্রসূতি অপারেশন রুমে অস্বাস্থ্যকর আর স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ দেখে সেখানে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে টাইলস ও এসি লাগিয়ে দিয়েছেন। আগে ডাক্তারদের জন্য কোন বিশ্রামাগার ছিল না। উপজেলা চেয়ারম্যান এসি যুক্ত বিশ্রামাগার করে দিয়েছেন। আগে রাতে ডাক্তার না থাকলেও এখন ২৪ ঘন্টায় নিজ কর্মস্থলে থেকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ।

এরই ধারাবাহিকতায় নরমাল ডেলিভারী নিশ্চিত করণসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি  চট্টগ্রাম বিভাগে ১ম এবং সারা দেশে ২য় স্থান অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির  কর্তৃপক্ষ।