।।নিজস্ব প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে বহিষ্কার করা হয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিকে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে কুমিল্লা জেলা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আউয়াল সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে গতকাল সোমবার দৌলতপুর ইউনিয়ন সভাপতি মো. মইন উদ্দীন চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়। আসন্ন ২৮ ডিসেম্বর দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকার পরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় এই বহিষ্কার আদেশ দেয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
অথচ চলতি বছরের মার্চ মাসে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নেতাকর্মীদের সরাসরি বহিষ্কার বা স্থানীয় কমিটি বিলুপ্ত করা থেকে জেলা, উপজেলা, মহানগর ও পৌর কমিটিকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি।
গত ৩ মার্চ ২০১৭, রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের কোনো শাখার কেউ যদি অপরাধী হয়, শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজ করে তাহলে তাকে সরাসরি বহিষ্কার করা যাবে না। বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠাতে হবে এবং সেই সুপারিশ কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত হবে।(সূত্র : দৈনিক কালের কণ্ঠ, ৪ মার্চ ২০১৭)।
এবং বিষয় দলের জেলা, উপজেলা, মহানগর ও পৌর কমিটিকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মইন উদ্দীন চৌধুরীকে বহিষ্কারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে অগ্রাজ্য করে জেলা কমিটিই বরং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
ছবি : মো. মইন উদ্দীন চৌধুরীকে বহিষ্কারের আদেশ দিয়ে কুমিল্লা জেলা উত্তর আওয়ামী লীগের
চিঠি।
বহিষ্কারের বিষয়ে মো. মইন উদ্দীন চৌধুরী তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাত্র ১০৮ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে যাই। বিগত দিনে বিএনপির চেয়ারম্যান এলাকায় কোনো উন্নয়নই করেন নি।তাই ইউনিয়নে এখনো আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমার বাড়ি ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থীর ঘাঁটি এলাকায়। এবারও যাতে বিএনপির প্রার্থী সুবিধা করতে না পেরে এবং তার ভোট কাটার জন্য আমি ঘোড়া মার্কায় স্বতন্ত্র নির্বাচন করছি।’
বহিষ্কারের ব্যাপারে মইন উদ্দীন আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করে, ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং বিএনপির প্রার্থীর বিজয়ের পথ সুগম করতেই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাকে কোনো ধরনের ফোন বা কারণ দর্শানোর চিঠিও দেয়া হয়নি। তবে বহিষ্কারের চিঠি আমি এখনো হাতে পায়নি। লোক মারফত শুনে ফেসবুকে বহিষ্কারের চিঠি দেখেছি।’