দাউদকান্দির কৃষকবন্ধু মতিন সৈকত পরিবশেবান্ধব প্রযুক্তির জন্য দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক গ্রহণ করেন

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের কৃতি সন্তান কৃষকবন্ধু অধ্যাপক মতিন সৈকত পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্বাবন ও ব্যবহারের জন্য দ্বিতীয়বার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে কৃষিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক গ্রহণ করেন। ১৬ জুলাই রবিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্ত্বে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২১ ও ১৪২২ বঙ্গাব্দের পুরস্কার প্রদানের সময় প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মতিন সৈকতের গলায় মেডেল পরিয়ে দেন এবং সনদ ও চেক প্রদান করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিনিয়র কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ। মন্ত্রীপরিষদের সদস্যসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এই সময় উপস্থিত ছিলেন। মতিন সৈকতকে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান। এর আগে মতিন সৈকত ২০১০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে আরেকবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার গ্রহণ করেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী তার সনদে উল্লেখ করেন “বাংলাদেশের গনমানুষের উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্বাবন ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে জনাব এম এ মতিন (মতিন সৈকত) কে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার ভূষিত করা হলো।” কৃষিমন্ত্রনালয় প্রকাশিত স্মরনিকায় উল্লেখ করা হয়। “জনাব এম এ মতিন সৈকতের উদ্বাবিত স্বল্পমূল্যে সেচ প্রযুক্তি স্থানীয় জনসাধারণকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি কৃষি ও মাছ চাষে সেচ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ উন্নয়নের নিরলসভাবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়া বোরো মৌসুমে বিঘাপ্রতি মাত্র দুইশত টাকার বিনিময় বিশ (২০) বছর যাবৎ সেচ সুবিধা প্রদান করে আসছেন। নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর বালাই নাশক এবং জমিতে জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে কৃষকে উৎসাহিত করছেন। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১৫৪টি আইপিএম ও আইসিএম ক্লাবকে সংগঠিত করে। রাসায়নিক সার ও বালাই নাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কৃষকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করে যাচ্ছেন। এছাড়া নিজস্ব নার্সারির মাধ্যমে চারা উৎপাদন, মৎস চাষ সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। স্বল্প ব্যয়ের সেচ প্রযুক্তি উদ্বাবন, জৈব সার ও জৈব প্রযু্িক্ত ব্যবহারে কৃষকে উদ্ধুদ্ধকরণ এবং বৃক্ষরোপন কার্যক্রমে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এম এ মতিন (মতিন সৈকত) কে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২১ প্রদান করা হলো। উল্লেখ্য মতিন সৈকত দশম শ্রেনীতে পড়ার সময় সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন পত্র পান। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারীভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে প্রথমস্থান অর্জন করেন। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এফ এ ও এবং কানাডা বাংলাদেশ সেন্টার সহ অনেকেই তার কাজের প্রসংশা করেছেন।

Comments (0)
Add Comment