ইনিংসের আঠারতম ওভার শেষ। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ চার উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান। ভক্তরা ভেবেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা বুঝি ২০০তে গিয়ে থামবে। কিন্তু ভিন্ন পরিকল্পনা ছিল সে সময় ৫৭ রানে অপরাজিত থাকা ডেভিড মিলারের। ১৯ নম্বর ওভারটি করার জন্য সাইফুদ্দিনের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক সাকিব। ওভারের প্রথম বলেই ছয়। পরের বলেও। এবং পরের তিনটা বলেও। আঠারতম ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ২০৯/৪। মিলার ৫৭ (২৫) থেকে এক লাফে ৮৮ (৩১)। শেষ ওভারে অন স্ট্রাইক থাকায় ডেভিড মিলারের সেঞ্চুরিটা ছিল প্রত্যাশিত। সেই সঙ্গে উঁকি দিচ্ছিল টি-২০ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরিম্যান হওয়ার হাতছানি। আশা পূরণ করলেন মিলার। শেষ ওভারে ১৩ রান করলেন তিনি। ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র দুই ওভারের ঝড়ে ১৭৮ থেকে পৌঁছে যায় ২২৪ রানে। ১২ বলে ৪৬ রান!
টি-২০ ক্রিকেটে ঝড়ো গতির সেঞ্চুরিম্যানের তালিকায় প্রোটিয়াদেরই দাপট। ২০১২ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে মাইলফলক স্থাপন করেছিলেন রিচার্ড লেভি। ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটুর জন্য রেকর্ডটা নিজের করতে পারেননি ডু প্লেসিস। এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেন ৪৬ বলে। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন ডেভিড মিলার। গতকাল পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি। দুর্দান্ত এই সেঞ্চুরি করতে ৯টি ছক্কা ও ৭টি চার মেরেছেন মিলার। কেবল তাই নয়, ডুমিনি, ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলা ও ডু প্লেসিসের পরে পঞ্চম দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে টি-২০ ক্রিকেটে হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মিলার।
গতকাল মিলারের অতি মানবীয় ইনিংস না হলে লিখতে হতো হাশিম আমলাকে নিয়েই। তার ৫১ বলে ৮৫ রানের ইনিংসটার গুরুত্বও তো কম নয়! বরং তিনিই গতকাল প্রোটিয়াদের বড় স্কোরের পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন। ১১টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি ছিল অসাধারণ। পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি চার ওভার বোলিং করে মাত্র ২২ রান দিয়েই তুলে নেন দুটি উইকেট। বাকিদের কেউ চল্লিশের কম রান দেননি। মাহমুদুল্লাহ তো এক ওভারেই দেন ১০ রান। তাসকিন ৩ ওভার বোলিং করে ৪১, মেহেদী হাসান ৪ ওভারে ৪৬, রুবেল হোসেন ৪ ওভারে ৫১ ও সাইফুদ্দিন ৪ ওভারে ৫৩ রান দেন। সাইফুদ্দিন অবশ্য আমলা আর ভিলিয়ার্সের উইকেট দুটিও শিকার করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা মোটেও ভালো গেল না টাইগারদের। দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ আর তিন ওয়ানডের সিরিজ ৩-০তে পরাজয়ের পর ভক্তরা ভেবেছিলেন টি-২০তে অন্তত কিছু করে দেখাবে বাংলাদেশ। কিন্তু এখানেও তথৈবচ। প্রথম টি-২০ ম্যাচে ২০ রানের পরাজয়। গতকাল দ্বিতীয় টি-২০তে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের পরই যেন ম্যাচটা শেষ হয়ে যায়! প্রোটিয়াদের ২২৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।