॥ নিজস্ব প্রতিনিধি ॥মহামারি নোভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছেন তারা। সঠিক সময়য়ে পরিকল্পিতভাবে করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়ায় এ উপজেলায় আক্রান্ত ও সুস্থ্যতা দুটোতেই সফলতা অর্জন হয়েছে। এ উপজেলায় এপর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১শ ৬৫জন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৫৭জন, আর মৃত্যু বরণ করেছে ১জন। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন রয়েছে একজন ও হোম আইসোলেশনে রয়েছে ৮জন।
তবে, দেশের মধ্যে প্রথম উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের জন্য থ্রি- হুইলার ফ্রি- এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, ভ্রাম্যমাণ নমুনা সংগ্রহ বুথ এবং জেলায় প্রথম ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দ্বারা সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালু করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সারা দেশে। ফলে দেশের স্বাস্থ্য সেবায় হতে পারে অন্য জেলার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা একটি মডেল এমনটিই মনে করছেন সচেতন মহল।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশে প্রথম দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে লক্ষ্যে ১৫টি থ্রি-হুইলার ফ্রি-এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪টি থ্রি-হুইলার ফ্রি- এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। উপজেলার দৌলপুর ইউনিয়নে ১টি, মারুকা ইউনিয়নে ১টি, গোয়ালমারি ইউনিয়নে ১টি, পদুয়া ইউনিয়নে ১টিসহ মোট ৪টি ইউনিয়নে। এরফলে ওই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করেন, মহামারি করোনার এ দুর্যোগ মুহুর্তে সব চেয়ে প্রসংশনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ। যা স্বাস্থ্য সেবায় সাধারণ মানুষের মাঝে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এছাড়াও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে যাতে অন্য করোর মাঝে সংক্রামন ছড়াতে না পারে সেজন্য দেশে সর্ব প্রথম ভ্রাম্যমাণ নমুনা সংগ্রহ বুথ তৈরী করেছেন দাউদকান্দি উপজেলা। ফলে করোনা হটস্পট ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের পাশর্^বর্তী উপজেলা হয়েও আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় কুমিল্লার অন্য উপজেলা থেকেও অনেক কম বলে দাবি এ উপজেলার মানুষের।
এ বিষয়ে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুর আলম সুমন জানান, মহামারি করোনার প্রদূর্ভাবের ফলে জনজীবন যখন বিপর্যস্থ্য তখন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলীর নিকট সযোগিতা চাইলে তিনি তাৎক্ষনিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এরফলে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ উপজেলায় করোনা মহামারি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খান জানান, নোভেল করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলীকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানানো হলে, তিনি এসব পরিকল্পনার কথা শুনে তাৎক্ষনিক উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে তা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে এখন পর্যন্ত দাউদকান্দি উপজেলা করোনা প্রতিরোধে অন্যসব উপজেলা থেকে বেশি সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে, এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী জানান, বর্তমান এ দুর্যোগ মৃহুর্তে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া দাউদকান্দি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে যাতে তারা নির্বিগ্নে স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারে সে লক্ষ্যে একের পর এক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য একটি ভ্রাম্যমাণ নমুনা সংগ্রহ বুধ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালুসহ ৫টি থ্রি-হুইলার এ্যাম্বুলেন্স চালু করেছেন। পর্যায়ক্রমে আরও দশটি থ্রি-হুইলার এ্যাম্বুলেন্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।