দাউদকান্দির মিয়াজীর সাফল্য, মাছ চাষে বছরে আয় ৩২ কোটি টাকা

।। বিশেষ প্রতিনিধি।।

চাকরি বা কর্মসংস্থানের জন্য অন্যের পেছনে দৌড়ানো নয়, নয় বেকার বসে থাকা।  বরং উদ্যোক্ত হয়ে নিজেই শতাধিক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের বাশরা গ্রামের যুবক আলী আহম্মেদ মিয়াজী। নিজের গ্রাম ও আশপাশের কৃষিজমি ও পুকুর লিজে নিয়ে মাছ চাষ করে প্রতিবছর আয় করছেন প্রায় ৩২ কোটি টাকা।

সফল উদ্যোক্ত আলী আহম্মেদ মিয়াজী এসএসসি পাস করে ভেবেছিলেন, বড় ভাই যেহেতু ডিগ্রি কলেজে স্নাতকে পড়েন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পড়বেন। কিন্তু বিধি বাম, নিজের লেখাপড়া চলমান রেখে ধরেন সংসারের হাল। উদ্যোগ নেন লেখাপড়ার পাশাপাশি মাছ চাষ করার। পরামর্শ করেন মা নিলুফা বেগমের সঙ্গে। তিনিও সায় দেন। সেই থেকে মাছ চাষ শুরু। ২০০০ সালে মায়ের জমানো দেড় লাখ টাকায় পারিবারিক তিনটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। পরিবারের অনেকেই তাচ্ছিল্য করেন তখন। কতই-বা বয়স? কীই-বা করবে?

সব অবহেলা ও তুচ্ছা-তাচ্ছিল্য পেছনে ফেলে জয় করেই দেখিয়েছেন মিয়াজী। ২০০৭ সাল পর্যন্ত মাছের চাষ করেন মিয়াজী। প্রতিবছরই বাড়ে লাভ। মধ্যে দুই বছর কাটিয়ে আসেন মালয়েশিয়ায়। এরপর ২০০৯ সালে আবারো লেগে যান মাছ চাষে।

২০১৮ পর্যন্ত মিয়াজীর মাছের প্রকল্প এসে দাঁড়ায় ১ হাজার ১০০ বিঘা জমিতে। এখন প্রতিবছর ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ চাষ হয় তাঁর খামারে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩২ কোটি টাকা। মিয়াজীর মাছের খামারে এখন কাজ করেন এলাকার অনেক যুবক।

নিজের খামারের মাছ দেখভাল করছেন আলী আহম্মেদ মিয়াজী।

স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে মিয়াজী এখন মাছ পাঠান ঢাকার যাত্রাবাড়ী, চিটাগাং রোড, মুগদা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মিয়ারবাজার, সুয়াগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী, বসুরহাট, চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট, পাহাড়তলী ও ফিশারি ঘাটে।

১৯ বছরের টানা শ্রম বদলে ফেলেছেন মিয়াজীর জীবন। পরিশ্রমী এই মাছচাষি ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য উৎপাদন পুরস্কার পেয়েছেন। সবশেষ সফল মাছ চাষি হিসেবে জিতেছেন তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার ২০১৮।

তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার ২০১৮ গ্রহণ করছেন আলী আহম্মেদ মিয়াজী।

স্বপ্ন দেখেন দাউদকান্দিসহ আশপাশের উপজেলাগুলোর পতিত জমিগুলোতে মাছ চাষের। বলেন, একটি হিমাগার যদি তাঁর এলাকায় হতো, তাহলে মাছ চাষ আরও কত সহজ হতো!

মিয়াজীর এই সাফল্য দেখে এগিয়ে এসেছেন এলাকার অন্যরাও। এমনকি যাঁরা ভাবতেন ছেলেটি হয়তো পারবেন না, তাঁরাও আসেন মিয়াজীর কাছে সাহায্য চাইতে। মিয়াজী বলেন, যদি সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়, এই এলাকার মাছ চাষ আরও অনেক বাড়বে।

Comments (0)
Add Comment