ধারাবাহিক সফলতায় জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

।। বিশেষ প্রতিনিধি।।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিক সফলতা অক্ষুন্ন রেখে এগিয়ে চলেছে কুমিল্লার দাউদকান্দির জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। দাউদকান্দি ছাড়াও, পাশ্ববর্তী মতলব উপজেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু বোর্ডের ফলাফলেই নয়, বিতর্ক, ক্রীড়া ও অন্যান্য শিক্ষাসহায়ক প্রতিযোগিতায় উপজেলার শীর্ষ এবং জেলার অন্যতম অবস্থান ধরে রেখেছে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সবশেষ, কুমিল্লা জেলা পুলিশের আয়োজনে দ্বিতীয় অন্ত:জেলা বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০১৭’র প্রথম রাউন্ডে বিজয়ী হয় জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। এর মাধ্যমে দাউদকান্দি উপজেলার সেরা বিতর্ক দল হিসেবে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উপজেলা টু উপজেলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।

রোববার (১০ ডিসেম্বর ২০১৭) অনুষ্ঠিত এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল : মাদক প্রতিরোধে আইনের চেয়ে সামাজিক সচেতনতাই বেশি জরুরি’। এতে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমিন।

রোববার সকাল ১১টায় জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ দল,  বিপক্ষ দল গৌরীপুর মুন্সী ফজলুর রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজ দলকে ৭৮ পয়েন্ট ব্যবধানে  পরাজিত করে। এরপর দুপুর ১টায় একই বিষয়ে আরেকটি বিতর্কে ১২ পয়েন্ট ব্যবধানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজকে পরাজিত করে জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছায়।

ছবি : অন্ত:জেলা বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৭-এ বক্তব্য তুলে ধরছেন কলেজের এক বিতার্কিক।

অন্ত:জেলা বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ড দাউদকান্দি উপজেলার সকল কলেজ অংশগ্রহণ করে।  দ্বিতীয় রাউন্ডে বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপজেলা টু উপজেলা হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে কলেজ দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে।

উচ্চ শিক্ষায়ও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সফলতার সুনাম রয়েছে। প্রতি বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও বুয়েটের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন এখানকার শিক্ষার্থীরা। জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বেশ কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে শিক্ষকতা করছেন। এরমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিজয় লাল বসু অন্যতম। এছাড়াও প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই বুয়েটসহ দেশেরে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্বনামধন্য চিকিৎসক, বিসিএস কর্মকর্তা, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

ছবি : উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল ফলাফল অর্জনের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উল্লাস।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মো. সুবিদ আলী ভূঁইয়া ১৯৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ক্যাডেট কলেজের আদলে জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজটির সুনাম-সুখ্যাতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। মেধাবীদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় কলেজটি।

এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ১৯৯৫ সালে ০১ জন, ১৯৯৬ সালে ১০ জন, ১৯৯৭ সালে ০৭ জন ও ১৯৯৯ সালে ১০ জন শিক্ষার্থী কুমিল্লা বোর্ডে স্ট্যান্ড করে।

ফলাফলে সাফল্যের ধারাবহিকতায় ২০১৩ সালের উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২৪ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করে এবং  পাসের হার ছিল ৯৮%। সেবছর জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ১৩তম, কুমিল্লা জেলায় ৮ম এবং দাউদকান্দি উপজেলায় ১ম স্থান অধিকার করে।

এরপর ২০১৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৬ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করে এবং পাসের হার ছিল ৯৮.০২%। ২০১৫ সালে ২২ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫, পাসের হার ৯২% ও ২০১৬ সালে ১৫০ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পান, পাসের হার ছিল ৯৮.০২। কলেজটি গত ৫ বছর যাবৎ দাউদকান্দি উপজেলায় সেরা কলেজের পুরস্কার পেয়ে আসছে।

সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ মনোরম পরিবেশে গড়ে তোলা কলেজটির বর্তমানে ৭টি ছাত্রাবাসও রয়েছে। ইতোমধ্যে কলেজে কয়েকটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে।

ছবি :  কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি  এবং বর্তমানে কলেজের গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. সুবিদ আলী ভূঁইয়া-এর কাছ থেকে বৃত্তি ও সনদ গ্রহণ করছেন এক শিক্ষার্থী।

জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ধারাবাহিক সফলতা বিষয়ে, প্রতিষ্ঠানের আজীবন দাতা সদস্য ও দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ( শ্রেষ্ঠ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিভাগ ও কুমিল্লা জেলা) মেজর মোহাম্মদ আলী (অব.) প্রতিক্রিয়ায় জানান,  কলেজটি শুধুমাত্র বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নয়, খেলাধুলা ও একাডেমিক শিক্ষায়ও অনন্য । বর্তমানে কুমিল্লা জেলার শীর্ষ কলেজগুলির মধ্যে এটি অন্যতম।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, এই কলেজের সফলতা মানে দাউদকান্দির শিক্ষা ব্যবস্থার সফলতা, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতির সফলতা।