ওসির তত্ত্বাবধানে চাঞ্চল্যকর হৃদয় হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার-১

 

||নিজস্ব প্রতিনিধি||

কুমিল্লার দাউদকান্দির তাসফিন সিএনজি পাম্পের কর্মচারী হৃদয় হত্যার পাঁচ দিনের মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে হত্যা রহস্যের মূল ঘটনা উদঘাটন করেছে দাউদকান্দি মডেল থানার পুলিশ। গোয়েন্দাসূত্রে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের চাচাতো ভাই সুজন মিয়া (২০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

(গত ০৫ জুন,২০২০)শুক্রবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত সুজন (২০)কে শনিবার আদালতে জবানবন্দির মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। অনৈতিক মেলামেশার ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করেই হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়।

গ্রেফতারকৃত সুজন মিয়া দাউদকান্দি পৌরসভার গাজীপুর দিঘিরপাড় গ্রামের আবু হানিফ মিয়ার ছেলে।

তথ্ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন,২০২০ সোমবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার উত্তর সেন্দি এলাকার তাসফিন সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের পশ্চিম পাশে জমি থেকে হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করে মডেল থানা পুলিশ।

ওই দিনই নিহতের বাবা আব্দুল মতিন (মিন্টু) মিয়া অজ্ঞাত নামে থানায় অভিযোগ করেন। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে, দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি তদন্ত মোঃ হারুনুর রশিদের সহায়তায় হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে কাজ শুরু করেন সেকেন্ড অফিসার এসআই জামান, এএসআই আমির হোসেন ও এএসআই মেহেদী হাসানয়।গোয়েন্দা সূত্র ধরে সন্দেহভাজনভাবে মোঃ সুজন মিয়া সহ তিনজনকে আটক করে মডেল থানার পুলিশ টিম। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে চাচাতো ভাই সুজন খুনের কথা স্বীকার করায় আটককৃত অন্য দুজনেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরদিন কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান উর্মির নিকট খুনের ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় সুজন।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, দাউদকান্দি পৌরসভার গাজীপুর গ্রামের একটি মেয়ের সাথে আসামী সুজনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। প্রায় সময়ই হৃদয়কে সাথে নিয়ে ওই মেয়ের দেখা করতে যেত সুজন। একদিন মেয়ের বাবা মা বাড়ীতে না থাকায় হৃদয়কে বাইরে থাকতে বলে সুজন ঘরে গিয়ে প্রেমিকার সাথে শারিরীক ভাবে মেলামেশা করে। তাদের অজান্তে মেলামেশা দৃশ্য জানালা দিয়ে মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে হৃদয়। সেই ভিডিও গেল রমজানের কয়েকদিন আগে হৃদয় সুজনকে দেখিয়ে বলে তাকেও অনৈতিক কাজে সুযোগ দিতে হবে। সুজন তাকে (হৃদয়) অনুরোধ করে যে, মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেছে, এখন ভিডিওটি প্রকাশ করলে মেয়েটির সংসার ভেঙ্গে যাবে এবং তার মান সম্মানও যাবে। পরে কৌশলে ভিডিও উদ্ধার করার জন্য অন্য মেয়ের লোভ দেখিয়ে ঘটনার দিন(৩১মে) সন্ধ্যায় হৃদয়কে পাম্পের পশ্চিম পাশে ডেকে নেয় সুজন। ওইখানে তার মোবাইল থেকে ভিডিও ডিলিট করার জন্য উভয়ের মাঝে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সুজন গাছের ডালা দিয়ে হৃদয়ের মাথায় আঘাত করলে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন মোবাইলটি নিয়ে পানিতে ফেলে বাড়ীতে চলে যায় সুজন।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানায়, ঘটনার ৫ দিনের মধ্যে মামলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওসি তদন্ত হারুনুর রশিদ, এসআই মোঃ জামান আমির হোসেন ও এএসআই মেহেদী হাসানের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা টিম গঠন করে গোয়েন্দা সূত্র ধরে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন ও আসল হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সক্ষম হয়।

Comments (0)
Add Comment