আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ সময়ে এসে মন্ত্রিসভায় চারজন নতুন সদস্য যুক্ত হলেন। এর মধ্যে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গতকাল তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। এরা হলেন— মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ নেতা এ কে এম শাহজাহান কামাল এবং রাজবাড়ীর সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন শপথ নিয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে আর কাজী কেরামত আলী হচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী।
ছবি: নতুন তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রীর নামের তালিকা।
জানা গেছে, এদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের, এ কে এম শাহজাহান কামাল সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মোস্তাফা জব্বার ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব আর কাজী কেরামত আলী শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন।
মঙ্গলবার বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত শপথ পাঠ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন নতুন শপথ নেওয়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যরাও।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের পরিচালনায় শুরুতেই তিনজন পূর্ণ মন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। এরপর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ানো হয় কাজী কেরামত আলীকে। পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ৭২ বছর বয়সী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ তিনবার সংসদের খুলনা-৫ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। সম্প্রতি এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক ইন্তেকাল করলে মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মোস্তাফা জব্বার বিজয় বাংলা কিবোর্ডের উদ্ভাবক। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। আনন্দ প্রিন্টার্স এবং আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হয়েছে। ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন মোস্তাফা জব্বার। এর পরের বছর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার যুক্ত করে নেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভার আরেক নতুন মুখ শাহজাহান কামাল পাকিস্তান আমলের তুখোড় সংগ্রামী ছাত্রলীগ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি। প্রাজ্ঞ এই রাজনীতিক লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার ভাই অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি।
আর প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী গত নির্বাচনে সংসদের রাজবাড়ী-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এ নিয়ে তিনি পর পর চার বার এমপি নির্বাচিত হন। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
প্রসঙ্গত, নতুন তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী শপথ নেওয়ায় শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা হলো ৫৪। তাদের মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী।