।।নিজস্ব প্রতিনিধি।।
সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণাভিত্তিক সংগঠন মাটি’র আয়োজনে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের যুদ্ধাহত বীরাঙ্গনা স্বরূপা বেগমকে আর্থিক অনুদান ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বীরমাতা স্বরূপার হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন- দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী [শ্রেষ্ঠ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিভাগ ও কুমিল্লা জেলা]। এটাই ছিল স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর সরকারি বা বেসরকারিভাবে এই বীরমাতাকে দেওয়া প্রথম আর্থিক অনুদান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বীরমাতা স্বরূপার হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। উত্তরীয় পরিয়ে দেন লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক ও ভাষাসৈনিক ড. জসীম উদ্দিন আহমেদ। স্বরূপার হাতে উপহার তুলে দেন এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ প্রভাষ আমিন।
ছবি : যুদ্ধাহত বীরমাতা স্বরূপা বেগম।
এই অনুষ্ঠানের খবর বিটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারের পর আলোচনায় আসেন স্বরূপা বেগম। এরপর আরও ২/১ সেসরকারি সংগঠন তাঁকে সম্মাননা ও আর্থিক অনুদান প্রদান করে।
সম্প্রতি কুশল জানতে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন স্বরূপা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, এখনও তিনি সুখে নেই। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। নিজের অভাব-অনটনের প্রসঙ্গ তুলতেই জানান, মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট এখনো পাননি। তবে আবেদন করেছেন। তাই সরকারি ভাতাও পাচ্ছেন না। তাঁকে দ্রুত সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
বীরমাতা স্বরূপা আরও জানান, ২০১৫ সালে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যানের সহযোগিতায় জীবনে সর্বপ্রথম আর্থিক অনুদান পাওয়ার পর এখন মাঝেমধ্যে খোঁজ-খবর নেয় বিভিন্ন সংস্থা। এসময় তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী সাবের লাইগা আমি সবসময়ই দোয়া করি।
উল্লেখ্য, স্বরূপা বেগমের বাড়ি চৌদ্দগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বরূপা ১৩ বছরের কিশোরী। স্থানীয় এক ডাক্তারের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করত সে। আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসের কোনো একদিন সকালে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় স্বরূপাকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায়। সেখানে সে নির্যাতনে শিকার হয়। পরে পাকবাহিনী চৌদ্দগ্রাম থানায় আক্রমণ করে। এসময় স্বরূপা পালাতে দৌড় দিলে পাকবাহিনীর তাঁকে গুলি করে। তিনদিন পর জ্ঞান ফিরলে জানতে পারে সে এখন ভারতে ত্রিপুরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। জীবন বাঁচাতে ডাক্তারা তাঁর বাম পা কেটে ফেলে।
ডিসেম্বরে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে স্বরূপাকে দেশে আনা হয়। এক সময় তাঁকে বিয়ে দেয়া হলেও স্বামী কবির তাঁকে নানা অত্যাচার করে তালাক দেয়। আজ অবধি স্বরূপা পঙ্গুত্ব নিয়ে অসহায় জীবন-যাপন করে আসছিলেন।