দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার।
গতকাল সোমবার বিটিআরসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস এক্স সোমবারই এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তারিখ পাঁচ দফা পরিবর্তিত হয়।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়টি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত কোনো তারিখকেই চূড়ান্ত বলা সম্ভব নয়। এমনকি লঞ্চিং প্যাডে ক্ষণ গণনার মুহূর্তেও উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কক্ষপথে বহন করে নিয়ে যাবে স্পেস এক্সের উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯। গত ৩ মে এ উৎক্ষেপণযানে স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্টসহ উৎক্ষেপণ-পূর্ব কারিগরি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ওই পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনার পরই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্পেস এক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা করবে ফ্যালকন-৯। এর আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, ঢাকায় অবস্থান করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় অবস্থান করবেন। আর তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের নেতৃত্বে প্রায় ৪২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উৎক্ষেপণের সময় ফ্লোরিডায় অবস্থান করবে।
দেশের প্রথম স্যাটেলাইটটিতে থাকবে ৪০ ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দেবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রতি বছর অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করে। নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ অর্থ বাংলাদেশেই থেকে যাবে। ২০টি ট্রান্সপন্ডার ভুটান, নেপাল এবং এশিয়ার অন্য অংশে কিরঘিজস্তান, তাজাকিস্তানের মতো দেশেও ভাড়া দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করতে পারবে।
এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ফলে ব্যান্ডউইথের বিকল্প উৎসও পাওয়া যাবে। দেশের দুর্গম অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব হবে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্বাভাবিক টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও উদ্ধারকর্মীরা স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ রেখে দুর্গত এলাকায় কাজ করতে সক্ষম হবেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।