।।নিজস্ব প্রতিনিধি।।
‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার বাদ জুমা মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীরের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ-মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হবার কথা থাকলেও মাঝ পথেই মিছিল রেখে পলায়ন করে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা।
এর আগে গতকালও খালেদা জিয়ার গাড়ির বহর থেকে মিছিলরত নেতারা একইভাবে পালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনি সম্পাদক আল-আমিন ছিদ্দিকী আকাশ খালেদা জিয়ার গাড়ির বহরের সঙ্গে বিক্ষোভ-মিছিল করছিলেন। গাড়িবহর নয়াপল্টনে আসলে তিনি পুলিশের টিয়ারশেলে আহত হন। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন,
‘…আজ দলের অনেক দায়িত্বশীল নেতাদেরকে দেখেছি হাইকোর্ট (প্রেসক্লাব পয়েন্ট), শিশু একাডেমি, দোয়েল চত্বর দিয়ে পালিয়ে যেতে, প্লিজ এটা করবেন না। দলের পদটা দিয়ে অনেক কিছু করছেন। আজ নাম গুলো প্রকাশ করলাম না, কাকরাইলে পুলিশের সাথে সম্মূখ সমরে টিয়ারসেলের স্পিন্টারে আহত হয়ে যতটানা কষ্ট পেয়েছি, তার চাইতে অনেক বেশী কষ্ট পেয়েছি আপনাদের এভাবে পালিয়ে যেতে দেখে।
ফেইজবুক এবং রাজপথ দুটোতেই থাকেন।আর না হয় ফেইজবুকে লম্প জম্প করবেন না।’
ছবি :হাসপাতাল থেকে দেয়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনি স. আল আমিন সিদ্দিকী আকাশের আলোচিত স্ট্যাটাস।
শুক্রবারের কর্মসূচিতেও বিএনপির দায়িত্বশীল ও সিনিয়র নেতাদের এমন কাণ্ডে ছাত্রদল নেতা আকাশের মতই হতবাক তৃণমূল নেতাকর্মীরা। বিএনপির সিনিয়র নেতারা আসলেই কি চেয়ারপারসনের মুক্তি চায় কিনা- তাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ!
নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, দায়িত্বশীল নেতারা বোধহয় তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিচ্ছেন না। নইলে সাধারণ কর্মীদেরকে রাজপথে একা ফেলে নেতারা টানা দুই দিন মাঠ ছেড়ে পালাতেন না।