।। বিশেষ প্রতিনিধি।।
‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবির আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছিল ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত। আন্দোলনের মূল পর্ব ১৯৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনা।
২১ শে ফেব্রুয়ারি কেবল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া ঢাকা শহরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত ছিল কারণ এটা ছিল মূলত ছাত্র আন্দোলন। কিন্তু পাকিস্তানি পুলিশ কর্তৃক ছাত্রদের ওপর গুলি বর্ষণের পর তা স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনের রূপ নেয়। চারদিকে তখন বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রফিক, জব্বারদের রক্তেভেজা বাংলার আকাশ মাটি শোকাভিভূত, বেদনায় আপ্লুত।
২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্রহত্যর ঘটনায় প্রতিবাদের ঢেউ লেগেছিল কুমিল্লার দাউদকান্দিতেও। কারানির্যাতিত ভাষাসৈনিক ও কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রথম নারী অধ্যাপক লায়লা নূরের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায় ঐতিহাসিক সেই তথ্য। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান-
‘ আমার বড় বোন উম্মে কুলসুম গুলনাহার নূর ঐ সময় ফরিদপুর থাকতেন। তিনি ফরিদপুর স্কুলের হেড মিস্ট্রেস ছিলেন। গুল নাহার নূর ৫২’র ফেব্রুয়ারি মাসে কোন এক সময় ঢাকা যাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে জানান, একুশে ফেব্রুয়ারির পরই দাউদকান্দিতে লঞ্চঘাট বন্ধ ছিল। সারা পথেই স্কুলের ছাত্রদের মিছিল করতে দেখেছেন তিনি। গুল নাহার আরও জানান, দাউদকান্দি লঞ্চঘাটে আন্দোলনকারীদের একটি শ্লোগান ছিল এরকম- ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, উর্দুর কোনো দরকার নাই’।’
বড় বোন উম্মে কুলসুম গুল নাহার নূরের বরাত দিয়ে লায়লা নূরের উপরিউক্ত স্মৃতিচারণে ভাষা আন্দোলনে দাউদাকান্দির ছাত্র-যুবকসহ তৃণমূল জনতার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২’র ভাষার দাবির মিছিলে স্কুল ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। ঘটনার পরদিন দাউদকান্দির লঞ্চঘাট বন্ধ ছিল- এতে এ বিষয়টি পরিস্কার যে, ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পর রফিক, জব্বার ও বরকতরা শহীদ হওয়ার খবর দাউদকান্দিবাসী এরমধ্যেই জেনে যায়। যার প্রতিবাদে তারা লঞ্চঘাট বন্ধ রাখে। লঞ্চঘাটের সাথে দিনমজুরসহ সাধারণত তৃণমূল মানুষের সম্পৃক্ততাই বেশি থাকে, তাই দাউদকান্দির লঞ্চ ঘাটেও ভাষা আন্দোলন হয়েছে – লায়লা নূরের স্মতিচারণের তথ্য থেকে বিষয়টি পরিস্কার।