কুমিল্লা-১ আসন পুনর্গঠন : বিএনপি-জামায়াত জোটের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় আওয়ামী লীগের কেউ কেউ

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সংসদীয় আসন পুনর্গঠন খসড়ায় কুমিল্লার-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) ও কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) রাখার সিদ্ধান্তের আপত্তির ওপর শুনানি ছিল ২৪ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে যথাসময়ে শুনানি হয় এদিন। শুনানির পর কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি কমিশন।  চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে আগামী ৩০ এপ্রিল।  শুনানিতে সংসদীয় আসন পুনর্গঠনে ইসি নির্ধারিত ৩টি বিষয়ে গুরত্বারূপ করা হয়। তা হল- ১. জনসংখ্যা/ভোটার সংখ্যার ২. জন মতামত ৩. যোগাযোগ ব্যবস্থা।

আসন পুনর্গঠনে হোমনার সঙ্গে মেঘনাকে রাখার আবেদন, তৎপরতা এবং সবশেষ ইসির শুনানিতে দেখা গেছে এটি আসলে বিএনপি-জামায়াত জোটের দাবি। এর অনেক তথ্যপ্রমাণও রয়েছে। গত ১৯ মার্চ ২০১৮ দৈনিক প্রথম আলোতে আসন পুনর্গঠন  নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী) প্রতিবেদককে দেয়া সাক্ষাকারে বলেন, ‘ইসির প্রস্তাবটি যৌক্তিক। কারণ, দাউদকান্দি ভেঙে তিতাস উপজেলার সৃষ্টি হয়েছে।’

এরপর মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রমিজ উদ্দিন লন্ডনী গত ২৪ মার্চ তার ফেসবুক স্টাটাসে লিখেন,
‘আগামী ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন কর্তৃক হোমনা-মেঘনা সম্মিলনে কুমিল্লা-২ আসন চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি সকলের দোয়া প্রত্যাশী।’

এতে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, বিদ্যমান অবস্থা ভেঙ্গে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) ও কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) করার দাবিটি আসলে বিএনপি-জামায়াত জোটের।

কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোটের এই প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে যুক্ত হয়েছে মেঘনা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। এরমধ্যে মেঘনা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রতন শিকদার অন্যতম।  সবশেষ ২৪ এপ্রিল ইসির শুনানি হোমনার সঙ্গে মেঘনাকে রাখার পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন রতন শিকদার। এ সময় মেঘনা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন। একই দাবির পক্ষে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যান্যরা। অর্থাৎ বিএনপি-জামায়াত জোটের দাবির পক্ষে অনেকটা একাত্মতা ঘোষণা করছেন যেন মেঘনা আওয়ামী লীগের উপরিউক্ত দুই নেতা।

উল্লেখ্য যে, বিশ্লেষকরা বলছেন, কুমিল্লা-১ : দাউদকান্দির সঙ্গে মেঘনা থাকলে ২০০৮ নির্বাচনের মত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও পরাজয়ের সম্ভাবনা আছে বিএনপির। সেই পরাজয় ঠেকাতে দাউদকান্দির সঙ্গে তিতাস, আর হোমনার সঙ্গে মেঘনা থাকলে দলটির সুবিধা ও সহজ হবে।  এজন্যই কুমিল্লা-১ পুনর্গঠনে নানাভাবে  তৎপর বিএনপি-জামায়াত জোট। এই তৎপরতায় প্রকাশ্য যুক্ত হয়েছেন মেঘনা আওয়ামী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

শেয়ার করুন:

Related posts