বলদাখাল-শ্রীরায়েরচর সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন: ঢাকা-চাঁদপুর যাতায়াতে সময় বাঁচবে ২ ঘণ্টা; পাওয়া যাবে বহুমুখী সুবিধা

।। নিজস্ব প্রতিনিধি।।

বাংলাদেশের লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংযুক্ত কুমিল্লার দাউদকান্দির গুরুত্বপূর্ণ বলদাখাল-শ্রীরায়ের সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সোজাকরণ প্রকল্পের সার্ভে চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

 

রোববার (১০ জুন ২০১৮) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনের সংসদ  সদস্য এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জে. (অব.) মো. সুবিদ আলী ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান ওবায়দুল কাদের।

 

এ সময় মন্ত্রী বলেন, বলদাখাল হতে শ্রীরায়েরচর পর‌্যন্ত রাস্তাটি মূলত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত দাউদকান্দি-গোয়ালমারী-শ্রীরায়েরচর-মতলব উত্তর-ছেঙ্গারচর মহাসড়ক (জেড-১০৬২) এর অন্তর্ভুক্ত। উক্ত মহাসড়কের মোট দৈর্ঘ্য ২৬. ৭৭ কিলোমিটার। তারমধ্যে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের অংশের দৈর্ঘ্য ১০.৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে মহাসড়কটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায়  উহা প্রশস্তকরণ এবং বাঁক সরলীকরণেল নিমিত্ত সার্ভে কাজ চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে মহাসড়কটির প্রশস্তকরণসহ বাঁক সরলীকরণের প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ‘বলদাখাল-শ্রীচায়ের’ আঞ্চলিক সড়কটি দাউদকান্দি দক্ষিণাঞ্চল এবং চাঁদপুর ও মতলবের লাখো মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণ করা হলে সুদিন ফিরবে এ অঞ্চলের মানুষের। উন্নত হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া মিঠু বলেন, বলদাখাল-শ্রীরায়েরচর সড়ক প্রশস্ত করা হলে বহুমুখী সুবিধা পাওয়া যাবে।

যেমন –

১. বর্তমানে মহাসড়ক যানমুক্ত থাকলে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা। দাউদকান্দির বলদাখাল-শ্রীরায়েরচর সড়ক দিয়ে সহজেই ২ ঘণ্টায় চাঁদপুর যাওয়া যাবে। এতে সময় বাঁচবে ২ ঘণ্টা।

২. যাতায়াতে ২ ঘণ্টা বাঁচলে হাজার হাজার যানবাহনের জ্বালানী খরচ সাশ্রয় হবে। এতে দেশের মহামূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাসের মজুদ বাড়বে।

৩. মতলব উপজেলার এ অঞ্চলটি নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বছরের অধিকাংশ সময় এখানকার হাজারও জমি পানিতে ডুবে থাকে। সড়কটি মজবুত ও প্রশস্ত করা হলে এই নিম্নাঞ্চলে একটি বেড়িবাঁধের মত হবে। তাতে চাষাবাদের আওতায় আসবে হাজার হাজার একর জমি। ভাগ্য খুলবে কৃষকদের।

৪. এই সড়ককে ঘিরে গড়ে উঠবে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কর্মসংস্থান হবে লাখ লাখ মানুষের। সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি।

 

 

শেয়ার করুন:

Related posts