ভারী যানবাহন ও বালু ব্যবসায় বেহাল দশা বলদাখাল-জুরানপুর সড়কের

।।নিজস্ব প্রতিনিধি।।

অতিমাত্রায় বালুবাহী ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সংস্কারের দুই বছরের মধ্যেই অনেক জায়গায় খানা-খন্দ তৈরি হয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দির বলদাখাল-জুরানপুর আঞ্চলিক সড়কে। কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে সড়কের অংশ। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ পথের যাত্রীদের। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে ভোগান্তি সীমাহীন।

দুই পাশে যত্রতত্র বালু ব্যবসার কারণে সড়কে সবসময়েই ধুলাবালি উড়ে। তাই পথচারিরা যেতে হলে রুমাল দিয়ে নাক ঢেকেই যেতে হয় এ পথে।

ছবি : এ রকম অনেক জায়গাই ঢালাই উঠে গিয়ে বেহাল দশা হয়েছে সড়কের। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে খানাখন্দ ও গর্ত।

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মো. সুবিদ আলী ভূঁইয়া- এর উদ্যোগে বছর দু’এক আগে সড়কটি সড়ক সংস্কার করা হয়েছিল। এতে স্বস্তি ফিরে পায় এ পথের সিএনজি অটোরিকশাচালক, রিকাশাচালক ও যাতায়াতকারী জনগণ। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই নতুন এই সড়কের উপর দিয়ে শুরু হয় অনিয়মতান্ত্রিক বালু ব্যবসা। বলদাখাল হতে দৌলদ্দি পর‌্যন্ত সড়কের দুই পাশ দখল করে বালু ব্যবসা চলতে থাকে যত্রতত্রভাবে। দিনরাত অতিরিক্ত লোডের ট্রাক চলাচল করার কারণে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হয়। সড়কের এ বেহাল দশার জন্য বালু ব্যবসায়ীদেরকে দায়ী করছেন সিএনজি অটোরিকশাচালক ও ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অটোরিকশাচালক জানান, ‘ভাবতেও কষ্ট হয় যে, ২ বছর যেতে না যেতেই সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে গেছে। বলদাখাল রোড দিয়ে গর্ভবতী মহিলা, অসুস্থ্য  রোগী ও বৃদ্ধরা যেতে চায় না। এ কারণে যাত্রী ও আমাদের রোজগারও কমে গেছে।’

এ পথের একজন যাত্রী দু:খ করে বলেন, ‘বালু ব্যবসায়ীদের একটা সিন্ডিকেড আছে এখানে। ওরা খুব প্রভাবশালী। তাই আমরা কিছু বলতে পারি না ভয়ে।’

এ পথেই যাতায়াত করে জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ড. খন্দাকর মোশাররফ হোসেন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। বলদাখাল দিয়ে দৌলদ্দি যাওয়ার শুরুতেই সড়কের মুখে খন্দাকর মোশাররফ হোসেন কলেজ অবস্থিত। এ পথে যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বলদাখাল থেকে দৌলদ্দি পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের বালু ব্যবসা ও সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে, গেল বছরের ৩১ অক্টোবর চিঠি দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.)  মোহাম্মদ আলী (শ্রেষ্ঠ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিভাগ ও কুমিল্লা জেলা)।

ছবি : বলদাখাল থেকে দৌলদ্দি পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের বালু ব্যবসা ও সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে দেয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের চিঠি।

কিন্তু এই চিঠি উপেক্ষা করেই সড়ক দিয়ে চলছে অবাধ বালুর ব্যবসা ও বালুবাহি ভারি যানবাহন চলাচল।

এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে, সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ী ও দাউদকান্দি পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সড়কটি দিয়ে অবাধ বালু ব্যবসা ও ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধের জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন:

Related posts